টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপি কমিশনার। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৬:০০
রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাস বেড়েছে—টিআইবির এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি যোগদানের পর দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছি, টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে আমাদের বাস্তব তথ্য ও পরিসংখ্যানের মিল নেই।
তিনি বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা মাঠে রাখা হয়েছে। ডিউটির বাইরেও সম্ভাব্য ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত দুই মাসে অসংখ্য ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে ছিনতাই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য এটিকে শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, রাজধানীতে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির সব ইউনিট আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতির তথ্য পেলে গণমাধ্যম আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।
শাহবাগ থানাসহ ডিএমপির বিভিন্ন থানার ব্যারাকের বেহাল দশা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বার্ষিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজ শাহবাগ থানা পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে। শাহবাগ থানা অনেক পুরোনো। এ থানার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে ৩৩ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে ফোর্স ও কর্মকর্তাদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আপাতত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সদস্যদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
কাজের পরিবেশ ও মানসিক চাপের কারণে পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কনস্টেবলসহ থানায় কর্মরত সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ডেমরা পুলিশ লাইন্সের এক কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, পারিবারিক সমস্যার কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যেকোনো সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে উৎসাহিত করছি। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের কাউন্সেলরদের মাধ্যমে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছেও পাঠানো হবে।
শাহবাগ থানার চারপাশে দীর্ঘদিন ধরে জব্দ করা শত শত গাড়ি পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, আগে সেখানে আরও বেশি গাড়ি ছিল। এরই মধ্যে বেশ কিছু গাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। এজন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ডাম্পিংয়ের জায়গা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে যেসব ডাম্পিং সুবিধা রয়েছে, সেগুলোও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত। এখানে থাকা অনেক গাড়িই আদালতের আলামত, আবার কিছু ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এগুলো পাহারা দিয়ে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব, যাতে কোনো যন্ত্রাংশ চুরি বা ক্ষতি না হয়। আদালতের আলামতসহ অন্যান্য জব্দ যানবাহন আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন যানবাহন জব্দের বিষয়ে তিনি বলেন, এজন্য বিআরটিএর একটি আলাদা ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে। আমরা যেসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ করছি, সেগুলো সেখানে পাঠানো হচ্ছে। স্ক্র্যাপ নীতিমালা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ডাম্পিংয়ে থাকা ফিটনেসবিহীন যানবাহন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ হিসেবে অপসারণ করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।