পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষক পর্যায়ে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে বিএআরসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৩৬ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৬:০৪
দেশে পেঁয়াজের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে কৃষক পর্যায়ে নতুন করে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। এ কারণে আমদানির প্রয়োজন পড়ে। সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদার করে পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্প’-এর জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো. রফিকুল ই মোহামেদ। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান।
মন্ত্রী বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ঘাটতি তৈরি হয় এবং আমদানির প্রয়োজন দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা গেলে শুধু আমদানি নির্ভরতা কমবে না, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে পেঁয়াজ রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হবে। দেশের বাইরে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি মানুষ দেশীয় পেঁয়াজের চাহিদা রাখেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পেঁয়াজের স্বাদ ও গুণগত মান অন্য অনেক দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের তুলনায় আলাদা।
কর্মশালায় জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রকল্পটি পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রংপুর ও বগুড়াসহ ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর পচন কমাতে ৩ হাজার ৭০০টি পরিবেশবান্ধব এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৯০০ জন কৃষককে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ পচনের হাত থেকে রক্ষা করা এবং আমদানি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।
- বিষয় :
- কৃষিমন্ত্রী
- পেঁয়াজ
- ফার্মগেট
- কর্মশালা
- পেঁয়াজ সংরক্ষণ