বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন তাজউদ্দীন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সমকাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৪:২২
লেখক, প্রাবন্ধিক, চিন্তক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এক সংকটময় মুহূর্তে তাজউদ্দীন আহমদ ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। সে দায়িত্ব যোগ্যতার সঙ্গে পালনও করেছেন। তিনি ইতিহাসে থাকবেন এবং ইতিহাসকে বুঝতে সাহায্য করবেন। সঙ্গী হবেন আমাদের অগ্রগতির সংগ্রামে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে তাজউদ্দীন আহমদ স্মারক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম জননেতা তাজউদ্দীন আহমদের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র ও ধর্ম আলাদা– এটা তাজউদ্দীন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। তাঁর নতুন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ ছিল সামাজিকভাবে ইহজাগতিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি মুজিবকে ভালোবাসতেন। তাঁর আওয়ামী লীগে থাকার কারণও ছিল মুজিবের প্রতি আকর্ষণ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর তিনি যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন, প্রাণ দিয়েছেন– তার কারণও ইতিহাসের ভেতরই নিহিত। মুজিবের সঙ্গে তাজউদ্দীনের দূরত্ব তৈরি হয়। সে সময় মুজিবকে বোঝানো হয়, তাজউদ্দীন ক্ষমতালোভী এবং কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাজউদ্দীন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চাইলেও শেখ মুজিব সাধারণ ক্ষমা করায় তিনি হতাশ হন। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রক্ষী বাহিনী ও বাকশাল গঠন নিয়েও তাদের বিরোধ হয়। পরে পদত্যাগ করে মন্ত্রিসভায় না থাকলেও তিনি বলেছিলেন, ‘মুজিব ভাই এজন্যই কি আমরা ২৪ বছর সংগ্রাম করেছিলাম?’
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাজউদ্দীন যে বিপ্লব চেয়েছিলেন, সেটি ঘটেনি, ঘটবেও না। মুক্তিযুদ্ধের পর তাঁর কাছে পরবর্তী যুদ্ধ ছিল মুক্তির। যুদ্ধের জাতীয়তাবাদী স্তর শেষ হয়েছে, সেটিকে সমাজতান্ত্রিক স্তরে নিতে হবে সেটাই ছিল তাঁর উপলব্ধি। তবে সেটি গঠনের উপাদান চারপাশে ছিল না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে শারমিন আহমদ রিপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তাঁকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে। আশা করব, বাংলাদেশ নিজ প্রয়োজনেই তাজউদ্দীনকে খুঁজে নেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার, মেহেদী হাসান খান, ড. সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী প্রমুখ।
‘ইতিহাসে তাজউদ্দীন আহমদ এক শ্বাশ্বত সত্য’
তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাজউদ্দীনের অবদান অস্বীকার করলে আমরা পথ হারাব। ইতিহাসের পাতা ও আমাদের মন থেকে তিনি কোনো সময়ই হারিয়ে যেতে পারেন না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনুসন্ধান ও চর্চা করতে গেলে তাজউদ্দীনই বারবার আমাদের কাছে ফিরে আসেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাজউদ্দীনের অবদান অনস্বীকার্য। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মূলত তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে এই যুদ্ধকে এগিয়ে নিয়েছেন, চূড়ান্ত সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। ইতিহাসই তাঁর নামকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
- বিষয় :
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী