ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাঙ্গা মার্কিন অস্ত্রশিল্প

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাঙ্গা মার্কিন অস্ত্রশিল্প
×

ছবি: ফিনান্সিয়াল টাইমস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৫৯

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে বড় পরিসরে ব্যয় বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দেশটির শীর্ষ অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ও অর্ডার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নতুন অর্ডারের চাপ সামাল দিতে উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান এবং আরটিএক্স (সাবেক রেথিয়ন) চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ অর্ডার পেয়েছে। একই সঙ্গে তারা লাভের পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফায়ার কন্ট্রোল বিভাগে দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৪১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। প্যাট্রিয়ট ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের উৎপাদন বাড়ানোয় এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থার (মিসাইল ডিফেন্স এজেন্সি) কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে লকহিড মার্টিন। এই চুক্তির আওতায় টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন চার গুণ বাড়ানো হবে। এর ফলে কোম্পানিটির মোট অর্ডার ব্যাকলগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) মে মাসে এক বিশ্লেষণে জানায়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে আগে থেকেই মজুত কমে গিয়েছিল। নতুন পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি কাটাতে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

আরটিএক্সও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৮ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। গত এক দশকে বছরে গড়ে ৮৬টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হলেও ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে একাই ৭৮৫টি টমাহক সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে পেন্টাগন।

বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেলিয়াস রিসার্চের বিশ্লেষক স্কট মিকাস বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আরও কমে যাবে, যা আরটিএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অর্ডারের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, আরটিএক্সের অর্ডারের প্রায় ৪৮ শতাংশই বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে এসেছে। প্যাট্রিয়ট, এআইএম-১২০ অ্যামরাম এবং জেম-টি ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদাই এর বড় কারণ।

অন্যদিকে নর্থরপ গ্রুম্যান জানিয়েছে, তাদের অর্ডারের পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ২০০ কোটি ডলারের নতুন চুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ৭৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টিনেল’ আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য।

পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরান সংঘাত এবং ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ কারণে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সাত বছরের কাঠামোগত চুক্তির মাধ্যমে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে কোম্পানিগুলো উৎপাদন সম্প্রসারণে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়।

এই চাহিদা মেটাতে লকহিড মার্টিন মে মাসে আলাবামায় নতুন একটি উৎপাদন কারখানার নির্মাণকাজ শুরু করেছে। নর্থরপ গ্রুম্যান, আরটিএক্স এবং এল–৩ হ্যারিসও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কয়েক শ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করছে।

আরটিএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার ক্যালিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট এক ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করার প্রস্তাব শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনা আগামী কয়েক বছর ধরে অস্ত্রের চাহিদা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লকহিড মার্টিনের প্রধান নির্বাহী জিম টাইকলেট বলেন, নতুন কাঠামোগত চুক্তিগুলো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগাম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে। তাই অর্ডার হাতে আসার আগেই উৎপাদন অবকাঠামো ও নকশা উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস

আরও পড়ুন

×