বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে ব্রেখট, মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে ফিরলেন সৈয়দ জামিল আহমেদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৩:২৩
মাথার আকৃতি কি মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করতে পারে? গোলমাথা আর চোখামাথা- এই কাল্পনিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা, বৈষম্য ও শোষণের রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন জার্মান নাট্যকার বের্টল্ট ব্রেখট। তার সেই নাটক গোলমাথা আর চোখামাথা এবার বাংলা অনুবাদে মঞ্চস্থ করছে স্পর্ধা একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টস।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনিরুদ্ধ অনুর অনুবাদে এবং মহসিনা আক্তারের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় নাটকটির আরও চারটি প্রদর্শনী আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।
এ প্রযোজনার অন্যতম আকর্ষণ নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদের অভিনেতা হিসেবে মঞ্চে ফেরা। প্রায় চার দশক পর তিনি আবার অভিনয়ে ফিরেছেন। ১৯৮৪ সালে ফণীমনসা নাটকে অভিনয়ের পর এবার তিনি গোলমাথা আর চোখামাথা নাটকে বিচারকের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন দেশের নাট্যাঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত এক কাল্পনিক রাষ্ট্রকে ঘিরে। জনগণের প্রকৃত সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে ক্ষমতাসীনরা মানুষের মাথার আকৃতিকে কেন্দ্র করে সমাজকে গোলমাথা ও চোখামাথা- এই দুই ভাগে বিভক্ত করে। সময়ের সঙ্গে এই কৃত্রিম বিভাজন সামাজিক বৈরিতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত নাটকটি দেখায়, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার মাথার আকৃতিতে নয়, মানবিকতায়। ব্যঙ্গ, হাস্যরস ও রাজনৈতিক রূপকের মাধ্যমে ব্রেখট বিভেদের রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
প্রযোজনাটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মহসিনা আক্তার, যিনি সৈয়দ জামিল আহমেদেরই ছাত্রী। ফলে একজন শিক্ষকের নিজের ছাত্রীর নির্দেশনায় অভিনয় করাও এই প্রযোজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নাটকে সৈয়দ জামিল আহমেদের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন তিতাস জিয়া, মো. সোহেল রানা, সেমন্তী রোদসী, জাদিদ ইমতিয়াজ আহমেদ, নুসরাত জাহান রাইসা, আয়শা মনিকা রহমান, রিয়াসাত সালেকিন ঋত্বিকসহ একদল তরুণ অভিনয়শিল্পী। অভিজ্ঞ ও নবীন শিল্পীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দলগত অভিনয় নাটকটির রাজনৈতিক ব্যঞ্জনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
নাটকটি দেখতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক কামাল উদ্দিন কবির বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ জামিল আহমেদের মঞ্চে অভিনয়ে ফেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, শিল্পাঙ্গনের এই সময়ে এ প্রত্যাবর্তন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।