ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

অভিমত

বাংলাদেশের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই

বাংলাদেশের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই
×

মাহমুদ হাসান খান

মাহমুদ হাসান খান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩২ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন শুল্ককাঠামোর কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, বাংলাদেশের প্রতিযোগী সব দেশের পণ্যই নতুন শুল্ককাঠামোর আওতায় এসেছে। এর মধ্যে কোনো দেশের পণ্যে বাংলাদেশের পণ্যের চেয়েও বেশি হারে শুল্কারোপ হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে। 

বিশেষ করে প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের পণ্য এবার সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্পের আওতায় এসেছে। যেখানে আমাদের পণ্যে এই হার ১০ শতাংশ। ফলে আমরা এই যাত্রায়ও লাভবান হবো বলে আশা করি। মূলত, বাংলাদেশের পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপ হয়নি। শুল্ক এত দিনও ১০ শতাংশ ছিল, এখনও একই হার থাকবে। পরিবর্তন যা হচ্ছে, সেটা শুধু মার্কিন আইনের ধারা।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে বর্তমানে পণ্যভিত্তিক শুল্ককাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ যেসব পণ্য রপ্তানি করে সেগুলোর শুল্ক রয়েছে গড়ে ১৬ শতাংশ। এর সঙ্গে দেশভিত্তিক শুল্ককাঠামোয় ১০ শতাংশ মিলে বাংলাদেশের পণ্যে মোট শুল্কভার দাঁড়াবে ২৬ শতাংশ। বর্তমানে একই হারেই  শুল্ক আরোপ রয়েছে আমাদের পণ্যে। এবার শুল্কবিন্যাসের পেছনে মূল অভিযোগ, জবরদস্তির শ্রম। আমাদের এখানে জবরদস্তির শ্রম নেই সেই কথা আমরা আগেই তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়কে (ইউএসটিআর) জানিয়েছি। মাসখানেক আগে ইউএসটিআরের একটি প্রতিনিধি দলসহ ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্র্যান্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বিজিএমইএ কার্যালয়ে এসেছিলেন। সেখানেও আমরা পোশাক শিল্পে কোনো ধরনের জবরদস্তির শ্রম যে নেই, সে বিষয়টি বিভিন্ন  তথ্য ও যুক্তি দিয়ে তুলে ধরেছি। তাতে মনে হয়েছিল তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট। অর্থাৎ, আমাদের এখানে কোনোভাবে জবরদস্তির শ্রম যে নেই সে বিষয়ে তারা একমত। 

তখন তারা বলছিল, বাংলাদেশে জবরদস্তির শ্রম নেই ঠিক, তবে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে থাকে সেসব দেশে জবরদস্তির শ্রমের অভিযোগ আছে। তারা মূলত, চীনকে ইঙ্গিত করেছে। কারণ, আমরা চীন থেকেই বেশি কাঁচামাল আমদানি করে থাকি। 

তবে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর সম্প্রদায় দিয়ে জবরদস্তির শ্রমের যে অভিযোগ রয়েছে, সে প্রসঙ্গে আমরা বলেছি, বাংলাদেশ ওই অঞ্চল থেকে কাঁচামাল আমদানি করে না। যদি চীনের সুনির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির বিরুদ্ধে জবরদস্তির শ্রমের এ রকম কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের জানাতে বলেছি, আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখব না। 
দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে কোনো জবরদস্তিমূলক শ্রম নেই। অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার বিষয়টিও সঠিক নয়। এ নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। বরং দেশি-বিদেশি কমপ্লায়েন্স ও ডিউ ডিলিজেন্স পরিপালনের সুবাদে নিরাপদ উৎপাদন কাঠামোর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রয়েছে বাংলাদেশের। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে এই অবস্থানপত্র পাঠিয়ে আমরা বলেছি, বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত শ্রমঘন শিল্প এবং নিম্ন থেকে মধ্যম মূল্যের পোশাক পণ্যে সীমাবদ্ধ, যে ধরনের পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হয় না। ফলে মার্কিন উৎপাদন বা সোর্সিংয়ের ওপর এর কোনো বিরূপ প্রভাব নেই। এর আগে ইউএসটিআরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে করা অভিযোগ যে ঠিক নয়; সে বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। 

আমরা বলেছি, ২০১৩ সালের রানা প্লাজায় ভবন ধসের ঘটনার পর কর্মস্থলের নিরাপত্তায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইএলও এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর সহযোগিতায় অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাকশিল্পে নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংস্কার পরিচালনা করেছে। ফলে শিল্পজুড়ে কাঠামোগত, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটেছে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা কঠোর কমপ্লায়েন্স বা পরিপালনের শর্তারোপ করে থাকে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ‘ডিউ ডিলিজেন্স ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আমি বলব, বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত শ্রমঘন এবং নিম্ন থেকে মধ্যম মূল্যের পোশাক পণ্যের ওপর কেন্দ্রীভূত, যা যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হয় না। বরং এসব পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পোশাক সরবরাহের মাধ্যমে মার্কিন ভোক্তা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে উপকৃত করে। 

লেখক : সভাপতি, বিজিএমইএ

 

আরও পড়ুন

×