ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ আশ্রয়ে ২ লাখ মানুষ

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ আশ্রয়ে ২ লাখ মানুষ
×

ছবি: গেটি ইমেজেস

বিবিসি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৩

ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স ও স্পেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ২ লাখ এবং স্পেনে ২৫ হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে ফ্রান্স, আর স্পেনে জারি করা হয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থা।

ফ্রান্সের বোর্দো শহরের কাছে জিরোন্দ ও লান্দ অঞ্চলে দাবানল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বোর্দোর আশপাশের চারটি শহর থেকে প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যাপ ফেরেট উপদ্বীপসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ৮০টি বাড়িঘর পুড়ে গেছে। দাবানলে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করে অতিরিক্ত বিমান ও হেলিকপ্টার সহায়তাও চেয়েছে ফ্রান্স। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে তিনটি পৃথক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কার্লোস নোভিলো বলেছেন, আগুন এতটাই তীব্র যে, তা দমকলকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে এখন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্পেন সরকার ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। মাদ্রিদ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এ ঘটনাকে অঞ্চলটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে উল্লেখ করেছেন।

মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। রোবলেদো দে চাভেলা, ফ্রেসনেদিয়াস দে লা অলিভিয়া, নাভাস দেল রে, কোলমেনার দেল আররোয়োসহ একাধিক পৌরসভা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শহরে লকডাউনও জারি রয়েছে।

মাদ্রিদের পশ্চিমের ভিলামান্টা গ্রামের ৮৬ বছর বয়সী বাসিন্দা একোলোগিও ক্যাব্রেরা বলেন, আগুনের সামনে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। পালাতে না পারলে আগুন মানুষকে গ্রাস করে ফেলবে। দমকলকর্মীরা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর পরিবার বাগানের পাইপ দিয়ে বাড়ি রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। চলতি বছর গত দুই দশকের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে।

ফ্রান্স ও স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হলেও আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন

×