ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতে শিক্ষার্থীরা অনড়, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কলকাতায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ

ভারতে শিক্ষার্থীরা অনড়, ২৪ ঘণ্টার  আলটিমেটাম
×

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লির আন্দোলনের সংহতি জানিয়ে কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা -সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৭ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলটির দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে তাদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। 
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। 

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকার আমাদের কাছে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি, শিগগির শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হবে অথবা তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন।’ 

বৈঠকে সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির অন্যান্য দাবির মধ্যে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক বলে জানানো হয়।

মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শোনা হয়েছে। বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবহিত করে শনিবার পুনরায় বৈঠকে বসা হবে।’ তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বড় রূপ নেবে। বৈঠকের পরপরই ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা করা সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির ৪৭ কর্মকর্তাকে একযোগে বরখাস্ত করেছে সরকার। 

যন্তর মন্তরে হাজারো তরুণের অবস্থান  
নিট পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির মূল প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে টানা অবস্থান ধরে রেখেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ। বিক্ষোভ দমাতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লি পুলিশ ১৮টি মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং এলাকাটিতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখে। 

পুলিশি নিপীড়নের অভিযোগে সিজেপি একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো পুলিশ কর্মকর্তাদের ছবি ও ভিডিও আপলোড করা হবে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স তাদের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। 

কলকাতায় সংঘর্ষ ও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ 
দিল্লির এই আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে ভারতজুড়ে। গতকাল কলকাতায় বামপন্থি আটটি ছাত্র-যুব সংগঠন এবং সিজেপি সমর্থকদের মহামিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ। ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে বিক্ষোভকারীদের সরাতে কলকাতা পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও জুতা ছুড়ে মারে। 
এ ছাড়া মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও আমৃতসরেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও কোথাও শ্রেণিকক্ষ বর্জন কর্মসূচিও পালিত হয়।

এদিকে, রাজধানীর নিরাপত্তা বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার অতিরিক্ত ১০টি সিআরপিএফ কোম্পানি ছত্তিশগড় থেকে দিল্লিতে উড়িয়ে এনেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানীজুড়ে প্রায় ১৫০টি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) কোম্পানি মোতায়েন করা হচ্ছে। একেকটি কোম্পানিতে প্রায় ১০০ জন সদস্য থাকেন।  
 
অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক 
টানা ২৬ দিন অনশন করার পর গতকাল সকালে গুরগাঁওয়ের মেডান্ত হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে অনশন ভেঙেছেন লাদাখের প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোনম ওয়াংচুক অনশন ত্যাগ করলেও আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার এবং সহিংসতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। 

এদিকে, কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বল প্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ২০ জুলাই দিল্লির পুলিশি অভিযানে পেলেট গানে আহত শিক্ষার্থী সাহিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জবাবদিহি চাওয়া শিক্ষার্থীদের পেলেট গান দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। মোদিজির উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত লোকসভায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি। 

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এক্সে লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই লড়াই কেবল নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে নয়, এটি দেশের প্রত্যেক যুবকের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।’ 

প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে নতুন খসড়া বিল
অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ থামাতে গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে একটি নতুন কঠোর খসড়া বিল অনুমোদন করা হয়েছে। এতে অপরাধীদের জন্য সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সংগঠিত চক্রের ক্ষেত্রে ১০ বছরের জেলসহ সর্বোচ্চ ১০ কোটি রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। 

এদিকে, ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় করা রিট পিটিশন শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বেপরোয়া’ দাবি করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক রিট পিটিশন জমা পড়েনি, কেবল একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। 

 

আরও পড়ুন

×