জবানবন্দিতে মেজর (অব.) সাজ্জাদুল
চোখ বাঁধা বন্দির মাথায় গুলি করে সেতু থেকে ফেলে দেন জিয়াউল আহসান
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩৪ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩৭
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক মামলায় জবানবন্দিতে মেজর (অব.) খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম দাবি করেছেন, এক অভিযানে চোখ বাঁধা এক বন্দির মাথার পেছনে গুলি করে সেতুর নিচে ফেলে দিতে দেখেছেন জিয়াউল আহসানকে। এরপর তাকে একই ধরনের আরেকটি অভিযানে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তার ভাষ্য, সেই সিদ্ধান্তের পর তাকে তিরস্কার ও ভয় দেখানো হয় এবং পরদিনই র্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন মেজর (অব.) খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম। জবানবন্দিতে সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে সরকারি আদেশে তাকে র্যাবে বদলি করা হয় এবং ৫ জুলাই র্যাব সদর দপ্তরে যোগ দেন তিনি। সেখানে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে ১১ জুলাই তাকে র্যাব-৩-এ পদায়ন করা হয়। সে সময় র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান। র্যাব-৩-এ যোগদানের দিনই তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম তাকে জানান, সেদিন রাতে একটি অভিযানে অংশ নিতে হবে, যা জিয়াউল আহসানের নির্দেশে পরিচালিত হবে। রাত ১১টার দিকে সাদা পোশাকে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি র্যাব সদর দপ্তরের সামনে পৌঁছান। পরে চারটি গাড়ির বহর টঙ্গী হয়ে একটি নির্জন এলাকায় যায়।
সাজ্জাদুল ইসলামের দাবি, একটি সেতুর ওপর গাড়ি থামানোর পর চোখ ও হাত বাঁধা একজন বন্দিকে নামানো হয়। তার ভাষ্য, জিয়াউল আহসান ওই ব্যক্তিকে সেতুর রেলিংয়ের কাছে নিয়ে মাথার পেছনে গুলি করেন এবং পরে নিচে ফেলে দেন। ঘটনাটি দেখে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান। পরে আরেকটি স্থানে চোখ বাঁধা এক ব্যক্তিকে কয়েকজনের টেনে নিয়ে যেতে দেখেন, কিন্তু তাকে আর ফিরে আসতে দেখেননি।
পরদিন, ১২ জুলাই, র্যাব-৩-এ যাওয়ার পথে তিনি জানতে পারেন যে তাকে র্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। র্যাব-৩-এ পৌঁছানোর পর তাকে সরাসরি কুমিল্লা সেনানিবাসের অর্ডিন্যান্স ডিপোতে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে তাকে একজন অবিশ্বস্ত ও অবাধ্য কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার দাবি, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও এরপর আর পদোন্নতি পাননি এবং অবসরের নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ বছর আগেই ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।