পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের আহ্বান ইফতেখারুজ্জামানের
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৭:২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে একটি সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হলে সারাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সমঅধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পাঁচ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন এ সভার আয়োজন করে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের অধিকার প্রশ্নটি শুধু একটি অঞ্চলের মানুষের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের সব নাগরিকের অধিকার ও গণতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সেখানে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা জাতীয় স্বার্থের অংশ।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা পালনের সক্ষমতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলতার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একই সক্ষমতা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কেন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে না।
তার মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে শুধু নিরাপত্তা কার্যক্রম নয়, আস্থা তৈরির উদ্যোগ (কনফিডেন্স বিল্ডিং), সামাজিক পুনর্বাসন এবং সব অংশীজনকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে সরকারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, সহিংসতার উৎস ও অনুঘটকগুলো পর্যালোচনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।