ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু ওষুধ নয়, রোগ প্রতিরোধে জোর দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শুধু ওষুধ নয়, রোগ প্রতিরোধে জোর দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
×

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৩৩

শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগমুক্ত রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার মতে, চিকিৎসাব্যবস্থাকে রোগ নিরাময়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য জন্মের পর থেকেই উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) আয়োজিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ ও আন্তরিকতা রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, একজন ডাক্তারের হাসিমুখ ও মানবিক ব্যবহার অনেক সময় রোগীকে মানসিকভাবে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়। তাই চিকিৎসা শুধু ওষুধ বা ট্যাবলেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সঠিক পরামর্শ ও ভালো ব্যবহারও চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের শেষ ভরসা চিকিৎসক। রোগীর প্রতি দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের আস্থা অর্জন করতে হবে।

দেশে ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কষ্ট ও চিকিৎসার চাপ অত্যন্ত বেশি। তাই এ ধরনের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাকে আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারের স্বাস্থ্যনীতি তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, গবেষণা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। কোনো নাগরিক যেন স্বাস্থ্যসেবার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্য গবেষণায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ডায়রিয়া ও কলেরা বিষয়ে দেশের গবেষণার সুফল বিশ্বজুড়ে কাজে লাগছে।

গবেষকদের মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তথ্য উপস্থাপনের আগে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা প্রয়োজন। স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও সমস্যার ভিত্তিতে গবেষণা পরিচালিত হলে কার্যকর সমাধান বের করা সহজ হবে। একটি উপজেলার সফল উদ্যোগ অন্য এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

অনুষ্ঠানে নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×