ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
×

মাহদী আমিন

 বাসস

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। 
মাহদী আমিন বলেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে। এসব শ্রমিক দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগির টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি, যেন প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বাড়ানো এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকা বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের পর এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছিল, যারা সিন্ডিকেটের অংশ ছিল, তাদের কেউ নতুন তালিকায় থাকবে না। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এ ছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে কীভাবে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
দুদেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগস্টের শেষ সপ্তাহ নাগাদ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন শুরু হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

×