এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা
আলিফের ক্ষতিগ্রস্ত চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই
আলিফ চৌধুরী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৮ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১১:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তি নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হলেও ক্ষতিগ্রস্ত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলিফের চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক সামিয়া নুজহাত জানান, আলিফ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি, কী দিয়ে তাঁর চোখে আঘাত করা হয়েছিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পাথর বা ইটের টুকরোর মতো কোনো শক্ত বস্তুর আঘাতে চোখে আইবল ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। একই সঙ্গে চোখের ওপরের ও নিচের পাতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গোলক, পাতা ও ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রনালি মেরামত করা হয়েছে। এ ধরনের আঘাতের পর চোখের স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরে নাও আসতে পারে।
ডা. নুজহাত বলেন, চোখটি সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়ে গেছে কিনা, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ক্ষত কতটা ভালোভাবে সারে, সেটির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে আক্রান্ত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
আরেক চিকিৎসক আব্দুল আহাদ জানান, অস্ত্রোপচারের আগেই সিলেটে প্রাথমিক পরীক্ষায় আলিফের আক্রান্ত চোখে ‘নো পারসেপশন অব লাইট (এনপিএল)’ শনাক্ত হয়। অর্থাৎ ওই চোখে আলো দেখার ক্ষমতাও ছিল না। সে কারণে শুরু থেকেই চিকিৎসকরা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখেননি। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল, ক্ষতিগ্রস্ত চোখে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো, অন্য চোখ ও আশপাশের টিস্যু সুরক্ষিত রাখা এবং চোখের বাহ্যিক গঠন যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করা, যাতে চোখটি গর্ত হয়ে না যায়।
আব্দুল আহাদ বলেন, আলিফের অপর চোখ এখনও ভালো রয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, আক্রান্ত চোখের রেটিনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি স্ক্যানেও চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ মিলেছে। ফলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন আংশিকভাবে পুনর্গঠন করা গেলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আলিফ নবীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের ফারুক চৌধুরীর ছেলে। হবিগঞ্জের একটি কলেজের একাদশ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি।
- বিষয় :
- চোখ নষ্ট