দুই বছর পূর্তির অনুষ্ঠান
দ্রোহযাত্রা বিকশিত করে অব্যাহত রাখার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৭
দ্রোহযাত্রার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। বিকেলে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ ও ‘এই শেকল পরার ছল’ গান পরিবেশন করা হয়। পরে সভাপ্রধানের বক্তব্য দেন আনু মুহাম্মদ।
দুই বছর আগে যে দ্রোহযাত্রা স্বৈরশাসনের অবসানের ডাক দিয়েছিল, সেই যাত্রার প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতন হলেও বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তাঁর আহ্বান, হতাশ না হয়ে গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের শক্তিকে আরও সংগঠিত ও বিকশিত করে দ্রোহযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।
গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। এমন বাংলাদেশ, যেখানে ধর্মীয়, লিঙ্গীয়, শ্রেণিগত ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে শক্তিগুলো সংগঠিত হবে এবং রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হবে– এমন প্রত্যাশাই তৈরি হয়েছিল।
তবে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও সেই প্রত্যাশা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ। তাঁর ভাষায়, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের, সর্বজনের শক্তির প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু সেই শক্তিকে সংগঠিত ও বিকশিত করা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় আদর্শকে সমাজে প্রতিষ্ঠার কাজ দুর্বল থাকলে গণঅভ্যুত্থান নিজে থেকে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারে না।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতির কারণেই আমরা এই ২০২৬ সালে আবারও দ্রোহযাত্রায় শামিল হয়েছি।’ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে জনগণের শক্তিকে আরও সংগঠিত ও বিকশিত করার কাজ বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এবারের দ্রোহযাত্রার আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক কর্মসূচি নয়; বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে বিশ্বাসী মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। এবারের কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিল, জাতিগত, ধর্মীয় ও লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়ন বন্ধ এবং মতপ্রকাশের অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া শ্রমিকের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, বন্ধ কলকারখানা চালু, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, উন্নয়নের নামে প্রাণ-প্রকৃতিবিনাশী প্রকল্প বন্ধ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও কাজের অধিকারকে জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, কবি মোহন রায়হান, জামসেদ আনোয়ার তপন, আরিফ নূর, রহমান মফিজসহ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব। এতে অংশ নেন কোরাস, সায়ান, দ্য কমরেডস, বিবর্তন, উদীচী, মাভৈ, কফিল আহমেদ ও সমগীতের শিল্পীরা।
- বিষয় :
- শহীদ মিনার