মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৭ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লেখক-অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের নামে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এ এস এম মাকসুদ কামাল, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনটি বর্তমানে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে।
উইং কমান্ডার সাইফুরকে গ্রেপ্তারের আবেদন
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে আগামী রোববার এ-সংক্রান্ত আদেশ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।’
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর সর্বশেষ বিমান সদরদপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’ ডেপুটি ডিরেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। গত ২১ জুন ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে। এরপর ২৬ জুলাই রাতে তাঁর বাসা থেকে তাঁকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাঁকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তখনকার স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান সে সময় র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। আর তখনকার লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান ছিলেন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের ‘নেতৃত্বে’ দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর খোঁজ মেলেনি।