ফল বিশ্লেষণ
শিখন ঘাটতিসহ নানা সংকট, ১৯ বছরে সর্বনিম্ন পাস
সাব্বির নেওয়াজ
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। এবার তা কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমেছে, যা ২০০৭ সালের পর ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ ৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬টি। প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মানবিক বিভাগে বড় বিপর্যয়, ইংরেজি ও গণিতে ব্যাপক অকৃতকার্য, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং তুলনামূলক কঠোর মূল্যায়নে এই চিত্র তৈরি হয়েছে। ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্ররা ধারাবাহিকভাবে ফল খারাপ করছে।
শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী খাতা মূল্যায়ন করায় এবার শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে। এটিকে খুব খারাপ বলা যাবে না, বরং এটি মানসম্মত ফল।
তবে শিক্ষাবিদদের মতে, এটি কেবল একটি পরীক্ষার ফল নয়; এর পেছনে মাধ্যমিক শিক্ষার দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতি, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের দুর্বলতা এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সংকট কাটাতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ঘাটতি পূরণে বাড়তি যত্ন (রেমিডিয়াল ক্লাস), সহায়ক শিক্ষা (সাপোর্ট লার্নিং), শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে। সোমবার প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিসংখ্যান, শিক্ষাবিদদের অভিমত বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাস
এ বছর কারিগরি এবং মাদ্রাসাসহ মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ কমেছে ২২ হাজারের বেশি।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরে আর কখনও এত কম পাসের হার দেখা যায়নি। মাঝখানে ২০২১ সালে করোনা পরিস্থিতিতে বিশেষ মূল্যায়নের কারণে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু স্বাভাবিক পরীক্ষা ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে ফিরে আসার পর ফল ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী হয়েছে।
প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য
এবার মোট অকৃতকার্য হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের একজনেরও বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, ৩৮ হাজার ১২৯ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে–১০ হাজার ১০৫ জন।
মানবিক বিভাগে ফল বিপর্যয়
মানবিক বিভাগের ফল বিশ্লেষণে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এ বছর মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ছয় লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিন লাখ এক হাজার ১৭৪ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনেরও বেশি ফেল করেছে। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ইংরেজি ও গণিতে অকৃতকার্য হওয়ায় পুরো ফলের ওপর বড় প্রভাব পড়েছে।
ইংরেজি ও গণিতই সবচেয়ে বড় বাধা
বোর্ডগুলোর বিষয়ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব বোর্ডেই সবচেয়ে কম পাসের হার ইংরেজি ও গণিতে। সব বোর্ড মিলিয়ে ইংরেজিতে গড়ে পাস করেছে প্রায় ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং গণিতে প্রায় ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার মাত্র ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডেও গণিতে পাসের হার ৭০ শতাংশের নিচে।
অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সমকালকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ইংরেজি ও গণিতই পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ দুটি বিষয়ে বেশি ফেল করায় সামগ্রিক ফল নেমে গেছে।
মেয়েরা এবারও এগিয়ে
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফলে আগের ধারাই বজায় রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ হলেও মেয়েদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ ৫-এর ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। সাধারণ বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৮ হাজার ৭০৫ জন মেয়ে এবং ৪৭ হাজার ৩০৪ জন ছেলে।
শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান তিন-চতুর্থাংশের বেশি কমেছে
ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলেও। গত বছর যেখানে ২ হাজার ৯৬৮টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৬৯-তে।
অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি– এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২-তে। শিক্ষাবিদদের মতে, এটি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
দাখিলে পাস কমলো প্রায় ১৩%
দাখিল পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬ হাজার ১৭৬ শিক্ষার্থী। গত বছর দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার দেশের ৭৪১টি কেন্দ্রে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন।
কারিগরি বোর্ডে পাস প্রায় ১৫% কম
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার হয়েছে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ বোর্ডে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ শিক্ষার্থী। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
বোর্ড চেয়ারম্যানদের ব্যাখ্যা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ফলাফলকে শুধু পাসের হার দিয়ে বিচার করলে হবে না; কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে এবং কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে ফল খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী খাতা মূল্যায়নের কারণে এবার শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা চৌধুরীর বলেন, এবার প্রকৃত পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধার ভিত্তিতেই মূল্যায়িত হয়েছে। এটিকে খুব খারাপ বলা যাবে না; বরং এটি একটি মানসম্মত ফল।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ বলেন, শুধু ইংরেজি ও গণিতেই প্রায় ৩৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে দক্ষ ইংরেজি ও গণিত শিক্ষকের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ জ ম রেজাউল করিম খান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের ফল ভালো, তবে মানবিক বিভাগে ফল খারাপ হয়েছে। এই বছর ফলাফলে কোনো ম্যানিপুলেশন (নম্বর কমবেশি) করা হয়নি।
গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কিছুটা বাড়ায় এসএসসির ফল নিয়ে সন্তুষ্ট বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবার যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, তারা নতুন কারিকুলামের প্রথম ব্যাচ। সে হিসেবে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেছে। ইংরেজি ও সাধারণ বিজ্ঞানে ফেলের হার অস্বাভাবিক বেশি হওয়ায় মোট পাসের হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর ভিন্ন মূল্যায়ন
যেখানে ফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা, সেখানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের মূল্যায়ন ভিন্ন। ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ফল খারাপ হয়নি; বরং সুন্দর হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্রে যা লিখেছে, সে অনুযায়ী নম্বর পেয়েছে। কেউ পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী তা পরীক্ষা করা হবে।
শিখন ঘাটতিসহ বিভিন্ন দুর্বলতাকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মনে করেন, এবারের ফল দীর্ঘদিনের শিক্ষা সংকটের প্রতিফলন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, মোবাইল ফোনে অতিনির্ভরতা, অনিয়মিত পড়াশোনা এবং গণিত-ইংরেজিতে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা একসঙ্গে কাজ করেছে।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, শুধু ফল প্রকাশ করে দায় শেষ করলে হবে না; দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য রেমিডিয়াল ক্লাস, সাপোর্ট লার্নিং, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ ড. ছিদ্দিকুর রহমান খানের মতে, একজন শিক্ষার্থী স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিন মাস প্রস্তুতি নেওয়ার পরও যদি বোর্ড পরীক্ষায় ফেল করে, তাহলে শুধু শিক্ষার্থীকে দায়ী করা যায় না। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম বাস্তবায়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়বদ্ধতার জায়গায় বড় ঘাটতি রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দুজন সাবেক চেয়ারম্যানের অভিমত হলো, ইংরেজি ও গণিতে মৌলিক দক্ষতা উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ কর্মসূচি প্রয়োজন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা একাডেমিক সহায়তা প্রদান এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো শনাক্ত করে নিবিড় তদারকি করতে হবে। শিক্ষক সংকট নিরসন এবং গণিত-ইংরেজিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ বাড়াতে হবে। তাদের মতে, ফলের চেয়ে শেখার মানকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।
শিক্ষাবিদ হামিদা আলী বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন উচ্চ পাসের হারকে শিক্ষার মানের সূচক হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে এখন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ আরও জোরালো হয়েছে।
- বিষয় :
- এসএসসি
- রেজাল্ট
- পাসের হার
- শিক্ষা
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান