ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শূন্য পাসের দীর্ঘ তালিকায় উদ্বেগ

শূন্য পাসের দীর্ঘ তালিকায় উদ্বেগ
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট ও সিরাজগঞ্জের অন্তত ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া মোট ৬০৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।  শূন্য পাসের তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। 

বগুড়ার গাবতলী, শেরপুর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ৮টি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। একই সঙ্গে ধুনটের হাজী কাজেম-জোবেদা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভোকেশনাল শাখা থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে।

কামারচট্র বাটাতননেছা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, এবারের আগে কখনও এমন পরিস্থিতি হয়নি। একই কথা বলেন, শেরপুরের কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রাজ্জাক, সোনাতলার তেকানি-চুকাইনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আয়ুব আলী ও হাজী কাজেম-জোবেদা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক। তারা বলছেন,‘সবাই কেন ফেল করল, সেটি বিশ্লেষণ করতে হবে।’

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৬ জন, বাঘার বানিয়াপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ৬ জন এবং মোহনপুরের আমরাইল উচ্চবিদ্যালয় ১৩ জন এবং চারঘাটের খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। 
পাবনার ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ভাঙ্গুড়া দাখিল মাদ্রাসা, ভাঙ্গুড়া সিকে বি আলিম মাদ্রাসার ভোকেশনাল অংশ, হারোডাঙা দাখিল মাদ্রাসা এবং মহেলা দাখিল মাদ্রাসা। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিরাজগঞ্জের কামারাখন্দ উপজেলার চরটেংরাইল দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দুই শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে। 

রংপুরের পীরগঞ্জে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ দশটি দাখিল মাদ্রাসায় এসএসসি ও দাখিল সম্মানে কেউ পাস করেনি। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতড়া ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেনি। একই ইউনিয়নের ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকেও ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চবিদ্যালয় ১২ জন ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয় ৪ জন এবার প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারা সবাই অকৃতকার্য হয়। তালতলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য ও শ্রমে যুক্ত হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কারণে উপস্থিতি কম ছিল।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি। সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। 

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও বোদা সিদারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তারা কেউ পাস করতে পারেনি।
এ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এ এম রথবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে। তাঁরা নিয়মিত পাঠদান ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগও করেছেন।

প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় তৃতীয় অবস্থানে ছিল। এবার পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন বিবাহিত ছিল। ফল বিপর্যয়ের এটি একটি কারণ।
 লালমনিরহাট সদরে আফরাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায়ও পাশের হার শূন্য। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীন জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ফল বিপর্যয়ে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। 

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে  ক্ষেত্রে কেবল শোকজ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত একাডেমিক অডিট, শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদানের মান যাচাই, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার কর্মসূচি নিতে হবে।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আবদুল আলীম বলেন, শতভাগ ফেল দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বাড়বে।’
 

আরও পড়ুন

×