ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুষ্প

নতুন দেখা গোলাপি আদা

নতুন দেখা গোলাপি আদা
×

জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেখা গোলাপি আদা ফুল লেখক

মৃত্যুঞ্জয় রায়

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাছপালার মেলায় গেলে সব সময়ই নজর থাকে কোন গাছটা আগে দেখিনি; কিংবা কোনটা নতুন এলো তা দেখার। এবারও মেলায় গিয়ে আটটি নতুন গাছের খোঁজ পেয়েছি, যেগুলো আগে দেখিনি। নিশ্চয়ই আরও আছে, হাজার হাজার গাছপালার ভিড়ে তাকে খুঁজে পাইনি। বাংলাদেশের উদ্ভিদ তালিকায় এসব গাছের উল্লেখ না থাকায় ধরে নিয়েছি যে এগুলো সম্প্রতি এ দেশে এসেছে।

একটি স্টলের সামনের বাঁশবাগানের এক কোনায় কয়েকটা গাছের মধ্যে হঠাৎ চোখ পড়েছিল একটা গাছের ওপর। গাছটা চেনা, কিন্তু ফুলটা অচেনা। সঙ্গে থাকা বন্ধু বললেন, গাছটির নাম পিংক জিঞ্জার, যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় গোলাপি আদা। 

গোলাপি রঙের ফুল, তাই ওর নামটা তো গোলাপি আদা হতেই পারে। এ দেশে বনজঙ্গলে ঝোপঝাড়ে এ গাছের মতোই একটি গাছ প্রচুর দেখা যায়। সে গাছের নাম কেমুক বা কেঁউ। গোলাপি আদা গাছটির সঙ্গে তার বেশ মিল পেলাম। তবে সে গাছের চেয়ে পাতা ও গাছ কিছুটা ছোট, কাণ্ড সরু ও পাতার বিন্যাস সর্পিলাকার, কেঁউ গাছের ফুল সাদা, আর এটার ফুল গোলাপি। 
আর একটি গাছ ইতোমধ্যে পরিচিত হয়ে উঠেছে ইনসুলিন প্লান্ট নামে, সেটির ফুল হলদে। এসব গাছই কোস্টাস গণের ও কোস্টেসি গোত্রের। শুধু প্রজাতি আলাদা। Costus phyllocephalus Syn হলো গোলাপি আদার প্রজাতিগত নাম। Costus fissiligulatus যা ইংরেজিতে ক্যামেরুন পিংক জিঞ্জার, ক্যামেরুন স্পাইরাল জিঞ্জার, ক্যামেরুন কস্টাস বা আফ্রিকান প্রিন্সেস নামে পরিচিত। বাংলায় মনে হয় এ গাছকে আমরা ক্যামেরুন আদা বা গোলাপি আদা বলতে পারি। এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকার স্থানীয় একটি ছোট আকারের বহুবর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ। এর বৈশিষ্ট্য হলো সর্পিল সবুজ পাতা ও আকর্ষণীয় উজ্জ্বল গোলাপি ফুল। 

গোলাপি আদা একটি বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ বিরুৎ প্রকৃতির উদ্ভিদ। এ গাছ ৩৫ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এ গাছের কাণ্ড গোলাকার ও মসৃণ। পাতা সরল ও আয়তাকার, কিনারা অখণ্ড। পাতাগুলো চামড়ার মতো, শক্ত, পুরু ও মসৃণ, উপবৃত্তাকার, চকচকে সবুজ। কাণ্ডের ওপর পাতাগুলো অর্ধবৃত্তাকারে সর্পিল বিন্যাসে সাজানো থাকে। গাছ ও পাতা দেখতে প্রায় ইনসুলিন প্লান্টের মতো। কৌতূহল হলো, পাতার স্বাদও কি ইনসুলিন প্লান্টের মতো? একটি পাতার একটি সামান্য অংশ ছিঁড়ে চিবিয়ে পরখ করলাম। হুবহু ইনসুলিন প্লান্টের পাতার মতো স্বাদ, স্বাদে কিছুটা টক। 

এর ফুলগুলো শাখার প্রান্তে গুচ্ছ বা ‘হেড’-এর আকারে ফোটে। ফুলে বড় আকারের ব্র্যাক্ট বা উপপত্র থাকে, যার ফলক ৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফুলগুলো উভলিঙ্গী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও তিন-অংশবিশিষ্ট। বৃতি বা সেপাল-কাপ নলাকার, প্রায় ১.৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও দাঁতযুক্ত। ফুলে তিনটি পাপড়ি থাকে, যা গোড়ার দিকে যুক্ত ও আকারে অসমান। ফুলের ‘লিপ’ বা বিশেষ পাপড়িটি সবদিকে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার আকারের, গোলাপি রঙের ও ফুলের কেন্দ্রস্থল বা ‘থ্রোট’ সাদা। পুংকেশর একটি, পাপড়ির মতো এবং প্রায় তিন সেন্টিমিটার লম্বা। গর্ভাশয় অধঃস্থ ও তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। ফলটি একটি ক্যাপসুল বা গুটিজাতীয়, যার শীর্ষে স্থায়ী বৃতি বা সেপাল-কাপটি লেগে থাকে এবং এতে প্রচুর বীজ থাকে। বীজ থেকে চারা হয়। আবার গাছটি যেহেতু রাইজোম বা ভূগর্ভস্থ কাণ্ডবিশিষ্ট একটি বহুবর্ষজীবী, সে জন্য প্রাকৃতিক আবাসস্থলে সেসব কন্দ বা রাইজোম থেকে চারা গজায়। স্যাঁতসেঁতে, ছায়াময় বনের ঝোপঝাড়ের মধ্যে ভালোভাবে জন্মায়। ছায়া জায়গায় টবেও লাগানো যায়। টবের মাটি সবসময় ভেজা রাখতে হয়।
লেখক: কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ

আরও পড়ুন

×