ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মূল্যের চাপে পিষ্ট মানুষ

দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চাই

দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চাই
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়াকে কিছুতে বাগ মানানো যাইতেছে না। শুক্রবার প্রকাশিত সমকালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও, মহাখালী ও কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি পটোল, ধুন্দল ও ঝিঙা বিক্রয় হইয়াছে ৫০-৬০ টাকায়; বৃহস্পতিবার একই বাজারে সবজি তিনটির মূল্য ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একইভাবে বৃহস্পতিবার লম্বা বেগুনের কেজি ২০ টাকা বাড়িয়া হইয়াছে ৮০-১০০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়শের কেজি ১০ টাকা বাড়িয়া হইয়াছে ৫০-৬০ টাকা। বুধবার যে কাঁচামরিচের কেজি ছিল ৮০ হইতে ১০০ টাকা, বৃহস্পতিবার তাহা ১৪০ হইতে ১৫০ টাকায় বিক্রয় হইয়াছে। মাস দেড়েক ধরিয়া ডিম-মুরগির বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ হইতে ২০০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১৪৫ হইতে ১৫৫ টাকা। আটা-ময়দার বাজারেও উদ্বেগ কমে নাই। গত এক-দেড় মাসে কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়িয়া খোলা আটা ৪৫-৫০ টাকা এবং প্যাকেট আটা ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হইতেছে। কেজিতে দশ টাকা বাড়িয়া খোলা ও প্যাকেট ময়দার দাম দাঁড়াইয়াছে যথাক্রমে ৬৫-৭০ ও ৭০-৭৫ টাকা। ছোলা বুট, মসুর ডালের কেজিতেও পাঁচ হইতে ১০ টাকা বাড়িয়াছে। গত বুধবার ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুধু বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য সরকার লিটারে চার টাকা বাড়াইয়াছে। খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলে সরকার নির্ধারিত দর যথাক্রমে ১৮০ ও ১৬৩ টাকা হইলেও ক্রেতাকে গুনিতে হইতেছে কমবেশি ১৯০ ও ১৭৫ টাকা। বলা বাহুল্য, সকল প্রকার চাউলের মূল্য পূর্বেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাইয়াছে; যাহার ফলে এখন মোটা চাউল বিক্রয় হইতেছে ৬০-৬৫ টাকায় এবং সরু চাউল ৮০-৯০ টাকায়।

পণ্যসমূহের এহেন মূল্যবৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটিয়াছে যখন সরকার পূর্বসূরিদের ধারা মানিয়া উহাদের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক বলিয়া দাবি করিতেছে। প্রতিবেদন মতে, এক অনুষ্ঠানে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলিয়াছেন, বাজারে যাহাতে কৃত্রিম সংকট তৈয়ারি না হয়, সেই জন্য ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র খোলা এবং আমদানি ও সরবরাহের উপর সার্বক্ষণিক তদারকি চলিতেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানাও নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলিতেছে বলিয়া দাবি করিয়াছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলিয়াছেন, টিসিবির মাধ্যমে মাসে প্রায় ৭৮ লক্ষ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হইতেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রম চালু রহিয়াছে। এই সকল কার্যক্রম পরিস্থিতির দাবি বাস্তবে কতটা পূরণ করিতেছে, সেই প্রশ্ন থাকিয়া যাইতেছে। প্রথমত, নিত্যপণ্যের বাজারে গুটিকয়েক করপোরেট সংস্থার একচেটিয়া আধিপত্য পূর্বের ন্যায় বহাল রহিয়াছে, সরকার বা ভোক্তা অধিদপ্তরের হস্ত সেই পর্যন্ত পৌঁছায় বলিয়া কাহারও জানা নাই। বিশেষত ভোজ্যতৈলের বাজারের অস্থিরতা উহার প্রমাণ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেইখানে প্রায় দেড় কোটি পরিবারকে টিসিবির কার্ডের মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহ করিয়াও বাজারের আগুন নিভাইতে পারে নাই, সেইখানে মাত্র অর্ধেক পরিমাণ পরিবারকে একই কার্যক্রমের আওতায় আনিয়া কীভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহা কাহারও জানা নাই। তদুপরি, ব্যাংক খাতের দুর্দশার সহিত ব্যবসা-বাণিজ্যের দুরবস্থা মিলিয়া নিত্যপণ্য আমদানি কার্যক্রম কতটা স্বাভাবিক রহিয়াছে, সেই সংশয়ও উড়াইয়া দেওয়ার সুযোগ নাই। ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নূতন বেতনকাঠামো ঘোষণাকে কারণ দেখাইয়া কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ধীরে ধীরে পণ্যের দাম বাড়াইতেছেন–এমন অভিযোগও পাওয়া যাইতেছে। 

বলা বাহুল্য, অনেক দিন যাবৎ জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দামের কারণে কম আয়ের মানুষ তো বটেই, সাধারণ মধ্যবিত্তও বেকায়দায় রহিয়াছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট শুধু তাহাদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি করে নাই, সামগ্রিক শিল্প ক্ষেত্রে একপ্রকার অস্থিরতা সৃষ্টি করিয়াছে, যাহার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই হইয়াছে। অন্তত বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না লইলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ গ্রহণ করিতে পারে, তাহা সরকারকে ভাবিতে হইবে।
 

আরও পড়ুন

×