ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া নিয়ে উদ্বেগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া নিয়ে উদ্বেগ
×

 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

অপরিষ্কার ড্রেন, জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা আর পানি চলাচলে বাধা, এমন পরিবেশে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো যেন মশার আতুঁড়ঘরে পরিণত হয়েছে। দিন-রাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন হলের ড্রেন দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়ায় সেখানে ময়লা জমে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও পচনশীল আবর্জনা জমে থাকছে, আবার হলের আশপাশে রয়েছে ঝোপঝাড়। এসব কারণে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মশার উপদ্রবের প্রভাব পড়ছে তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে। রাতে কক্ষে পড়াশোনার সময় থেকে শুরু করে রিডিং রুম, নামাজের স্থান, এমনকি দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে রেহাই মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের। জানালা বন্ধ বা ফ্যান চালিয়েও উপদ্রব কমছে না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুন্তাসির আজিম জানান, অন্য হলগুলোর তুলনায় তাদের হলটি নিচু এলাকায় হওয়ায় আশপাশে ঝোপঝাড় বেশি। হলের ড্রেনগুলো অপরিষ্কার থাকায় পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। এসব কারণে হলে মশার প্রকোপ বেশি। বিশেষ করে রিডিং রুমে মশার জন্য পড়াশোনা করা যায় না। নামাজের জায়গাতেও প্রচুর মশা থাকে।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ বলেন, মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে জানালা বন্ধ রাখার পরও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। ফ্যান চালু রাখলেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয় না। মনে হয় হলটা মশার কারখানা। মশার কারণে পড়াশোনাসহ দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মশার কামড়ের পর দীর্ঘক্ষণ চুলকানি অনুভূত হয়, যা বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সেজুতি রানী বৈষ্ণবের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা খোলা রাখলে রুমে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। মশার উপদ্রব এত বেশি যে কখনও কখনও মশারির ভেতরেও মশা ঢুকে যায়। রাতে কয়েকবার ঘুম থেকে উঠে মশা মারতে হয়। কামড়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই জায়গাটি ফুলে যায় এবং চুলকানি হয়।
মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ ও স্প্রে কার্যক্রম হল প্রশাসনের হাতে নেই বলে জানিয়েছেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ জনি আলম। তাঁর দাবি, এই কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা পরিচালনা করে। জনি আলম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে একবার মশানাশক স্প্রে করার কথা। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি এস্টেট শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সপ্তাহে দুইবার স্প্রে করার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও ক্যাম্পাসে মশানাশক স্প্রে করা হয়। বৃষ্টির কারণে কখনও কখনও নির্ধারিত সূচিতে ব্যাঘাত ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রেজাউল করিমও একই ধরনের বক্তব্য দেন। সর্বশেষ কবে মশানাশক স্প্রে করা হয়েছে, সে-সংক্রান্ত কোনো তালিকা বা নথি দেখতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে আলাদা কোনো নথিপত্র নেই।
প্রশাসনের নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রমের দাবির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার মিল নেই বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, হলগুলোতে মশানাশক ওষুধ যথাযথভাবে ছিটানো হচ্ছে না। বিশেষ করে ময়লা জমে থাকা ড্রেনগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু স্প্রে করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ কমাতে হলগুলোর ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার, জমে থাকা ময়লা অপসারণ এবং অপরিচ্ছন্ন স্থানগুলো পরিষ্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে মশার উপদ্রব কিছুটা বেশি। সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ানো মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ দেখা দিতে পারে। মশার কামড়ের পর আক্রান্ত স্থান ফুলে যাওয়া ও চুলকানি অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। 
 

আরও পড়ুন

×