ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ, দাবি আদায়ে আন্দোলনে যাচ্ছে আজ

শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ, দাবি  আদায়ে আন্দোলনে যাচ্ছে আজ
×

 তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন ধরনের প্রান্তিক সুবিধা বাতিলের অপচেষ্টা, নির্বিচারে বদলি, তদারকির নামে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে হয়রানি, অস্থায়ী-ঠিকাদার শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগে অগ্রাধিকার না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভে দানা বেধেছে, যে কোনো সময় ‘বিস্ফোরণ’ ঘটতে পারে। জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনার মধ্যেই শ্রম অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এলো। 

এর আগে দাবি আদায়ের পাশাপাশি হয়রানি বন্ধে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন রীতিমতো আন্দোলনে নামতে যাচ্ছেন জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সংগঠন বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের পাশাপাশি বিপিসির আওতাধীন তেল বিপণনকারীসহ বিভিন্ন কোম্পানির শ্রমিক-কর্মচারীরা পৃথকভাবে আন্দোলনে নামছেন। যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা হতে যাচ্ছে। আজ রোববার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এদিকে বেসরকারি খাতে তেল আমদানি নিয়েও অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন তারা।

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি খাত হিসেবে আমরা শ্রমিক-কর্মচারীরা কখনও চাই না জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক, বরং এই বিষয়ে আমরা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছি। সরকারের পক্ষ থেকেও শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। রহস্যজনক কারণে সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রীমহল শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার খর্ব ও সুযোগ-সুবিধা বাতিলের মাধ্যমে এই খাতে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে অধিকার আদায়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করব।’
সূত্র জানায়, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন তেল-গ্যাস বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুই বছর পর পর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পুনর্নির্ধারণ ও যুগোপযোগী করা হয়। সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৯ মাস হতে চললেও কেবল ইস্টার্ন রিফাইনারি ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোতে এ নিয়ে নতুন কোনো চুক্তি হয়নি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া) সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন সভা গত ২২ জুন আহ্বান করা হয়।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, এই খসড়ায় বিভিন্ন অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য যুক্তি দেখিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ২২টি প্রান্তিক সুবিধা কমানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এমনকি বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ২ (৬২) ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘শিল্পবিরোধ এবং শিল্পবিরোধ নিষ্পত্তি’-সংক্রান্ত ধারা- ২০৯, ২১০ ও ২১১ রহিতকরণের কথা বলা হয়। 
বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কায়ছার হামিদ বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসির অযাচিত কিছু সিদ্ধান্ত জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শ্রমিকবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও অধিকার রক্ষায় আন্দোলনে যেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×