অভিমত
গ্যাস সংকট দীর্ঘ হলে নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে
এস এম মুজিবুর রহমান
এস এম মুজিবুর রহমান
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০০ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে মেঘনা গ্রুপের শিল্প উৎপাদন গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপের অভাবে বয়লার সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় গ্রুপের চিনি ও লবণ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে এক-তৃতীয়াংশে। দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি ও দাম বাড়তে পারে।
উৎপাদন ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ভারী শিল্পে বয়লার চালানোর জন্য উচ্চ চাপের গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় বয়লার চালু করা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মেঘনা গ্রুপের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও সেখানে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রেশনিংয়ের মাধ্যমে আটা ও তেল কারখানা চালানো হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য।
বাজারের ওপর প্রভাব ও বাফার স্টক
দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ জোগান দেয় মেঘনা গ্রুপ। সাধারণত সারাদেশে ১১টি ডিপোতে
পণ্য মজুত (বাফার স্টক) রাখা হয়; যাতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় চিনি ও লবণের স্টক শূন্য হয়ে গেছে। এই সংকট দীর্ঘমেয়াদি হলে বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত পণ্যের সরবরাহ না থাকলে খুচরা বাজারে খোলা চিনি, তেল বা আটার দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বিকল্প জ্বালানি ও আর্থিক ক্ষতি
ভারী শিল্প হওয়ায় ডিজেল বা সিএনজি ব্যবহার করে কারখানা চালু রাখার কোনো বিকল্পব্যবস্থা মেঘনা গ্রুপের নেই। এই সংকট কেবল মেঘনা গ্রুপের নয়, বরং জাতীয় সংকট। দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে সিমেন্ট, ফাইবার, কস্টিক সোডা ও পিভিসির মতো শিল্পগুলোতেও কাঁচামালের সংকট দেখা দেবে, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শ্রমিকদের অবস্থা
বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও নিয়মিত শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে এবং কাজ না থাকলে দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকরা আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
সরকারের কাছে সুপারিশ
সংকট নিরসনে এলএনজি টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে পেট্রোবাংলা বা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ মজুত রাখা এবং বিদেশি টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শিল্প খাতকে সচল রাখতে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে।
লেখক
সিনিয়র জিএম অ্যান্ড হেড অব অ্যাকাউন্টস
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
- বিষয় :
- অভিমত