ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

চালু হতে শুরু করেছে বন্ধ কারখানা

কিছু কারখানা খুললেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদনে যেতে পারেনি

চালু হতে শুরু করেছে বন্ধ কারখানা
×

গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় চার দিন পর গতকাল শনিবার হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে কারখানাগুলো চালু হয়েছে। মাধবপুরের ফার ইস্ট স্পিনিং মিল থেকে তোলা -সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৫ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের কোনো কোনো শিল্পাঞ্চলে আগের কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল শনিবার গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংও কমে এসেছে। বিশেষ করে দুপুরের পর হবিগঞ্জসহ কিছু অঞ্চলে গ্যাসের চাপ বেড়েছে। তবে ভারী শিল্প চালানোর গ্যাসের চাপ সবখানে ছিল না। 

ভারী শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ কারখানা গতকালও বন্ধ ছিল। গাজীপুর, ঢাকার সাভার-আশুলিয়া ও টাঙ্গাইলে গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়। কিছু কারখানা খুললেও প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদনে যেতে পারেনি।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে পল্লী বিদ্যুতে শিল্পকারখানায় উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে। এদিকে টানা তিন সপ্তাহের জ্বালানি সংকটে উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধে কিস্তির সুবিধা চাইছেন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের শিল্প মালিকরা। 

কিস্তিতে বিল পরিশোধে চিঠি
জুলাই ও চলতি আগস্টে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এই দুই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে পাঠানো চিঠিতে এ অনুরোধ জানান বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। 

চিঠিতে বলা হয়, তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জুলাই ও আগস্টে দেশের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি। গ্যাসের ঘাটতির কারণে উৎপাদন সচল রাখতে কারখানাগুলোকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নগদ অর্থে অতিরিক্ত দামে ডিজেল, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহ করেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় একই সঙ্গে বহন করায় কারখানাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। এ অবস্থায় এই দুই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, তৈরি পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলো দীর্ঘ সময় আর্থিক চাপে থাকলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন অব্যাহত রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে সরকারের কাছে এ অনুরোধ জানানো হয়। 

সংগঠনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বালানি সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, তিতাস, ডেসকো, ডিপিডিসি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। 

থমকে গেছে মেঘনা গ্রুপের উৎপাদন
তীব্র গ্যাস সংকটে মেঘনা গ্রুপের শিল্প উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় বয়লার সচল রাখা যাচ্ছে না। এতে গ্রুপের চিনি ও লবণ কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের উৎপাদন কমে এক-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন মেঘনা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মুজিবুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম।

হবিগঞ্জে গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি
হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গতকাল সকাল থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে তিন সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা শিল্পকারখানায় স্বস্তি ফিরেছে। 
তেলিয়াপাড়ার ফার ইস্ট স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার সুমন আহমেদ জানান, সকাল থেকেই তারা পূর্ণ মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক গতিতে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন আমরা চরম সংকটের মধ্যে ছিলাম। এখন গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।’

যমুনা শিল্পকারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আবুল হোসেন গতকাল সমকালকে বলেন, ‘সকাল থেকে গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে এবং শ্রমিকরা নিয়মিত কাজে যোগ দিয়েছেন। আশা করছি, আর কোনো সমস্যা হবে না।’ 

স্টার সিরামিকসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। দুপুরের মধ্যেই পূর্ণ মাত্রার চাপ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এতে উৎপাদন সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’

শাহজীবাজার জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গণি বলেন, গতকাল সকাল ৮টা থেকে ছোট-বড় ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। গ্যাসের চাপও সন্তোষজনক। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হবিগঞ্জ জেজিটিডিএসএলের আঞ্চলিক কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. আলী আক্কাছ জানান, তাঁর অধীন ১৩টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ কারখানা বন্ধ ছিল 
নারায়ণগঞ্জে গতকাল গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় বন্ধ কলকারখানা চালু হয়নি। 
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সমকালকে বলেন, ‘এইমাত্র আমি ফ্যাক্টরি থেকে বের হলাম। গ্যাস এলেও চাপ খুবই সামান্য। এই চাপে গার্মেন্টের ডাইং সেকশনের বয়লার বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালানো সম্ভব না। ফলে আমাদের ৫০০ গার্মেন্ট ও অন্যান্য শিল্পকারখানা বন্ধই ছিল।’ 

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘তিতাসের এমডির সঙ্গে কথা বলেছি, কাল (আজ) রোববার প্রয়োজনীয় চাপসহ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হতে পারে। সেটি হলে কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হবে।’ 
বাংলাদেশ লবণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, ‘যে গ্যাস এসেছে তার চাপ এতটাই কম; বয়লার চালু করা যাচ্ছে না। ফলে লবণ শোধন করা যাচ্ছে না। তাই উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি।’ 

নারায়ণগঞ্জে প্রায় পাঁচশ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, ৩০০ সাব-কন্ট্রাক্টরের গার্মেন্টস, দেড়শ ডাইং এবং লবণ কারখানা, রি-রোলিং মিল, সিমেন্ট কারখানাসহ হাজারের বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে। এদিকে জেলার রূপগঞ্জে গতকালও গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। কারখানা ছুটি ঘোষণা না করায় শ্রমিক-কর্মচারীরা অলস সময় কাটান। স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানায় গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরছে না। কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে, কোথাও কারখানার একটি অংশ চালু রেখে বাকি অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। 

ভূলতা এলাকার লিটল স্টার স্পিনিং মিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ খুবই কম। কারখানার অনুমোদিত চাপ ১০ পিএসআই হলেও পিক আওয়ারে তা ১ থেকে ১ দশমিক ৫ পিএসআইতে নেমে আসে।’ 

কাতরারচকের গ্রামটেক নিট ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের চাপ এত কম, স্বাভাবিকভাবে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। কারখানা সচল রাখতে সিএনজি স্টেশন থেকে বোতলে গ্যাস এনে পাইপের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।’

গাজীপুরে টেক্সটাইল, নিট ও ডাইংয়ের ৮০% কারখানা বন্ধ
গাজীপুরের কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার পিএন কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাপস কুমার তালুকদারের দুটি কারখানায় দুই হাজার ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। গত কয়েক দিনে তারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন একেবারে বন্ধ। এই বাস্তবতায় মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির কথা সমকালকে জানান তিনি। 

তাপস কুমার বলেন, গতকাল গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় ছিল। বিদ্যুতের সমস্যা তো আছেই। তাঁর মতে, গাজীপুরে ৮০ শতাংশ টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাতেগোনা কিছু গার্মেন্টে উৎপাদন চালু আছে। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, গ্যাস সংকটে সফিপুরের শামীম স্পিনিং মিলসের কয়েকটি ইউনিটে কাজ বন্ধ। উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। 

মৌচাকের নিশ্চিন্তপুর সামছুদ্দিন স্পিনিং মিলসে একই অবস্থা। সফিপুর মালেক স্পিনিংয়ের দুটি ইউনিট বন্ধ। সফিপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত গোমতী টেক্সটাইলে উৎপাদন ৩০ শতাংশে নেমে গেছে। কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। কিন্তু বেতন দিতে হচ্ছে ঠিকই। সামনে হয়তো ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। 

সাভারে গ্যাস এলেও আশানুরূপ নয়
ঢাকার সাভার-আশুলিয়ায় আগের সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ শিল্পকারখানা এখনও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। সাভারের পাকিজা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। 

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সপ্তাহখানেক আগে শিল্পনগরীর কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ ছিল। এক সপ্তাহ ধরে প্রায় অর্ধেক কারখানা চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলের বহু কারখানায় উৎপাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সাভারের রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর এবং আশুলিয়ার জিরাব এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানা ঘুরে উৎপাদন কার্যক্রমে গ্যাস সংকটের প্রভাব দেখা গেছে। কয়েকটি কারখানায় গ্যাসের চাপ বাড়া কিংবা বিদ্যুৎ ফেরার অপেক্ষায় উৎপাদন ইউনিট বন্ধ ছিল। অনেক কারখানা ডিজেল বা এলপিজি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছে। 

টাঙ্গাইলে ৫১ কারখানা বন্ধ
টাঙ্গাইলে বিভিন্ন ধরনের ৫১টি কলকারখানা বন্ধ ছিল গতকাল। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২টি কারখানা ডিজেল দিয়ে চালু রাখা হয়। 
টাঙ্গাইল গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ‘গ্রিড থেকে ১৫০ পিএসআই গ্যাস দেওয়ার কথা, কিন্তু পাচ্ছিলাম ৪০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২০ থেকে ২৫ পিএসআইতে। টাঙ্গাইলে গোড়াই, মির্জাপুর, হাঁটুভাঙ্গা, নাটিয়াপাড়ায় বিভিন্ন ধরনের ৫১টি কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। মির্জাপুরে অবস্থিত নাহিদ কটন, উত্তরা স্পিনিং মিলস, ইয়ুথ স্পিনিং মিলস, খান গার্মেন্টস, কমপিট কম্পোজিট, নিউটেক্স, সাদিয়া টেক্সটাইলে বর্তমানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না করায় সব কারখানাই বন্ধ রয়েছে। তবে নাটিয়াপাড়ায় অবস্থিত নাসির গ্লাসসহ কয়েকটি কারখানা বিকল্প হিসেবে ডিজেল দিয়ে চালু রেখেছে। 

গোড়াই এক্সপ্লোর গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গ্যাসের অভাবে কারখানা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ব্র্যান্ড ক্রেতাদের রপ্তানি আদেশের পণ্য সময়মতো সরবরাহ করতে না পারলে বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে। এ কারণে ডিজেল দিয়ে কারখানা চালু রাখতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখন ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না। 

ত্রিশালে বিকল্প ব্যবস্থায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন 
গ্যাসের তীব্র সংকট থাকলেও গতকাল ময়মনসিংহের ত্রিশালের আকিজ সিরামিকস ও পার্টিকেল, ত্রিশাল টেক্সটাইল সিটি, ড্রেসডেন টেক্সটাইল, লান্তাপু স্পিনিং মিল, দবির উদ্দিন স্পিনিং মিল, বাশার, নটেক্স, মুলতাদিনসহ সব শিল্পকারখানা খোলা ছিল। 

আকিজ সিরামিকস ও পার্টিকেলের এজিএম মামুন আকতার বলেন, গ্যাস সংকটের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হলেও ফ্যাক্টরি খোলা রয়েছে। লান্তাপু স্পিনিং মিলের ডিজিএম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের চাহিদা ১২ থেকে ১৩ পিএসআই থাকলেও সর্বনিম্ন আড়াই এবং সর্বোচ্চ ৫ পাই। গ্যাস যখন না থাকে তখন আমরা পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি। আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে না।’

দবির উদ্দিন স্পিনিং মিলের এজিএম সেলিম আল রাজী বলেন, ‘গ্যাসের বিকল্প হিসেবে আমরা পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

×