রাশিয়ান সেনা ইউভি রেডকিনসহ অপারেশন জ্যাকপটের জল যোদ্ধাদের স্মরণ
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ০১:০২
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বিস্ফোরণে একসঙ্গে চার জায়গায় পাকিস্তানি জাহাজসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজ ধ্বংসের জলবীরত্বের স্মৃতিচারণ করলেন একাত্তর সালের অপারেশন জ্যাকপটের নৌ কমান্ডো ও যোদ্ধারা। একই সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন জ্যাকপটে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও মাইন অপসারণ করতে গিয়ে ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই জীবন হারানো ইউরি রেডকিনকে।
গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে স্মৃতি একাত্তর ও রাশিয়ান হাউজের আয়োজনে 1971OUrPRIDE এর সহায়তায় অনুষ্ঠানে কমান্ডোরা তুলে ধরেন সেই বীরত্বের গল্প। জানান কয়েকজন কেবল জানতেন কোড। আকাশবাণী রেডিওতে হঠাৎ বাজে গানের সংকেত, ‘আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুরবাড়ি’। ১৯৭১ সালের ১৫ অগাস্ট রাতে ওই সংকেত পেয়েই অপারেশন জ্যাকপট’-এর দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছিলেন বীর নৌ যোদ্ধারা।
তারা জানান, আগস্টের ১৫ ও ১৬ তারিখ পরিচালিত অবিস্মরণী অপারেশন হয় একসঙ্গে চার জায়গায়। চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে। নৌ কমান্ডোদের নেতৃত্বে নৌ যোদ্ধারা আক্রমণ করে পাকিস্তানি জাহাজ সহ অন্যান্য দেশের জাহাজ ডুবিয়ে সমুদ্রবন্দর ও নৌ বন্দর অকেজো করে দেয়। বিশ্ব জেনে যায় পাকিস্তানিদের সব স্বাভাবিক থাকার ঘটনা মিথ্যা।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আয়োজক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান বলেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জলবীরত্বের অনবদ্য ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা জানা, তাদের সম্মাননা দেওয়া এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের স্মরণ করা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও অপারেশন জ্যাকপটের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন অপসারণ এবং ডুবে যাওয়া জাহাজ সরাতে গিয়ে জীবন দেওয়া রাশিয়ান সেনা ইউরি রেডকিনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অপারেশন জ্যাকপটে সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত দুটি গানও অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেন মকবুল হোসেন ও অন্য শিল্পীরা।
- বিষয় :
- মুক্তিযুদ্ধ