বিদ্যুতে বাড়তি গ্যাস, তিতাসের এলাকায় ভুগছে কারখানা
বড় শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমেছে; কোথাও সরবরাহ একেবারে নেই
হাসনাইন ইমতিয়াজ
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৃষ্ট গ্যাস সংকট ২৭ দিনেও কাটেনি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং কমানো হলেও শিল্প খাতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। বড় শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমেছে; কোথাও সরবরাহ একেবারে নেই। বিশেষ করে তিতাসের আওতাধীন সাভার, আশুলিয়াসহ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার কারখানা, আবাসিক; সব খাতেই সংকট তীব্র হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৬৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এর প্রভাবে দেশে রেকর্ড মাত্রায় লোডশেডিং শুরু হয়। এক পর্যায়ে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসে ক্ষুব্ধ মানুষের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হয়। সরবরাহ ৯৫ থেকে ৯৯ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হওয়ায় লোডশেডিং অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে শিল্প খাতে।
বিদ্যুতের চেয়ে শিল্পে গ্যাস কমেছে
পেট্রোবাংলার ২০ জুলাই ও ১৬ আগস্টের সরবরাহ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ প্রায় একই পর্যায়ে রাখা হলেও শিল্পে সরবরাহ কমেছে অনেক বেশি। ২০ জুলাই বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক ৯৫ কোটি ৮৩ লাখ ঘনফুট। ১৬ আগস্ট তা কমে হয়েছে ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ কমেছে মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট বা ২.৫ শতাংশ।
অন্যদিকে প্রধান বিতরণ কোম্পানিগুলোর শিল্পে সরবরাহে বড় পতন হয়েছে। ২০ জুলাই তিতাস, কর্ণফুলী, জালালাবাদ ও বাখরাবাদ– এই চার বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ ছিল মোট ১৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ঘনফুট। ১৬ আগস্ট তা নেমে এসেছে ৯৭ কোটি ৮২ লাখ ঘনফুটে। অর্থাৎ ৪১ কোটি ৩ লাখ ঘনফুট বা প্রায় ৩০ শতাংশ কম গ্যাস পাচ্ছে শিল্প।
তিতাসের শিল্পে সরবরাহ ১০১ কোটি ৯৮ লাখ থেকে কমে ৭০ কোটি ১৫ লাখ ঘনফুটে নেমেছে। কমেছে ৩১ কোটি ৮৩ লাখ ঘনফুট বা ৩১.২ শতাংশ। কর্ণফুলীর সরবরাহ ১৬ কোটি ৬৪ লাখ থেকে ১০ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে নেমেছে। জালালাবাদের ১১ কোটি ৩৪ লাখ থেকে কমে ১০ কোটি ১৭ লাখ এবং বাখরাবাদের ৮ কোটি ৮৯ লাখ থেকে ৬ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে নেমেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনেই গ্যাসের বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। তাই গ্যাসের মোট সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পে এর প্রভাব বেশি পড়ছে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাসের চাপ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে শিল্পের আর্থিক চাপও বাড়ছে।
কার্গো নিয়ে সিদ্ধান্তে জটিলতা
এলএনজি সংকটের শুরুটা হয়েছিল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে। সেই সমস্যা অনেকটা কাটলেও সংকট পুরোপুরি দূর হচ্ছে না এলএনজি কার্গোর অভাবে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কার্গো কেনার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক তদবির, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর চাপ এবং প্রশাসনিক লবিং বড় ভূমিকা রেখেছে। এসব কারণে সরবরাহকারীদের সক্ষমতা যাচাই ও সময়মতো সরবরাহের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় আসেনি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয়টি কার্গো আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুটি করে কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয় ৬ আগস্ট। পরিকল্পনা ছিল, একের পর এক কার্গো এসে এক্সিলারেটের টার্মিনালের মজুত পূরণ করবে এবং টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করবে।
তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্গো আসেনি। প্রথম কার্গোটির ১৭ আগস্ট আসার কথা ছিল। সেটি না আসায় এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা মজুত এলএনজি দিয়ে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হয়েছে। এ মজুতও বুধবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ আগস্ট আরও একটি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেটির সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টার্মিনালটি কারিগরিভাবে প্রস্তুত থাকার পরও সেখানে পর্যাপ্ত এলএনজি ঢুকছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কম দামে কার্গো পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সরবরাহের নিশ্চয়তা ও লজিস্টিকস সক্ষমতার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। নির্ধারিত কার্গো সময়মতো না আসায় সরকারকে আবার স্পট মার্কেটের দিকে যেতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে ২৩, ২৬ ও ২৯ আগস্ট এবং ১ ও ৪ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য নতুন করে পাঁচটি এলএনজি কার্গো কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সেখান থেকে গতকাল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। দুই কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরামকোর কার্গো নিয়ে প্রশ্ন
কার্গো সংকটের মধ্যে সৌদি আরামকোর ‘আল হামরা’ কার্গোটি নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। বহির্নোঙরে তিন দিন অপেক্ষা করার পরও পুরোনো নকশার জাহাজ হওয়ায় কার্গোটিকে টার্মিনালে যুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানায় এক্সিলারেট। সংকটের মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ওই কার্গো থেকে এলএনজি খালাসের জন্য এক্সিলারেটকে রাজি করানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তারা সম্মতি দেয়নি। এরপর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ভিটলের একটি এলএনজিবাহী কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে সেটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা হলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। আরামকোর কার্গোটিও পরে ফিরে যায়।
তবে আরামকোর কার্গো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালে একই ধরনের কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করা হয়েছিল। তাহলে এবার দেশের এমন বড় গ্যাস সংকটের মধ্যে এক্সিলারেট কেন কার্গোটিকে টার্মিনালে যুক্ত করতে রাজি হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ওই সময় কার্গো গ্রহণে আপত্তির প্রকৃত কারণ প্রকাশ না করে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কার্গোটি টার্মিনালে যুক্ত হতে পারছে না– এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরে কার্গো-সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি সামনে আসায় আগের ব্যাখ্যার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কাতারের এলএনজিও কমেছে অর্ধেক
এলএনজি সংকটের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহেও ধাক্কা লেগেছে। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে কাতার যাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সেখানে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে কাতার থেকে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে কাতার এনার্জির বাংলাদেশের জন্য ৪০টি এলএনজি কার্গো সরবরাহের কথা থাকলেও তারা ২০টি কার্গো সরবরাহ করতে পারবে বলে পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে।
যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মাজ্যুর’ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে নির্ধারিত কার্গো সরবরাহ কমিয়েছে। হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে খালি এলএনজি ট্যাঙ্কারের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কাতার থেকে কিছু কার্গো পাঠানো হলেও তা সময়মতো বাংলাদেশের ভাসমান টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না।
কাতারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে খোলাবাজার থেকে অন্তত ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির তুলনায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি ক্রয়ে সরকারের আর্থিক চাপও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি খাতে ভর্তুকি প্রায় তিন গুণ হয়ে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ছয় হাজার কোটি টাকা।
এলএনজি কমতেই কমছে মোট সরবরাহ
দেশে সরকারি হিসাবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে প্রকৃত চাহিদা অন্তত ৫০০ কোটি ঘনফুট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রাত ৮টার হিসাবে দেশে মোট গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট।
দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সামিটের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি এবং এক্সিলারেটের প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিট থেকে এখন প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস এলেও এক্সিলারেটের সরবরাহ রয়েছে সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। তাই মোট গ্যাস সরবরাহ কমে যাচ্ছে। গত শনিবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২৪৩ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট।
স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি টার্মিনাল দুটি পুরোপুরি সচল থাকলে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ২৬৫ কোটি ঘনফুট হতে পারে। কিন্তু কার্গো সংকটের কারণে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
শিল্পে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা
গ্যাসের চাপ কম থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বড় কারখানার পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বয়লার ও উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে, এমন শিল্পেও সমস্যা বাড়ছে। কোথাও সরবরাহ বন্ধ, কোথাও আবার গ্যাস থাকলেও চাপ এত কম যে, উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় অনেক কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না। দীর্ঘ সময় এ পরিস্থিতি চললে শিল্পের উৎপাদন, রপ্তানি ও আর্থিক সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম সমকালকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিলে এর প্রভাব শুধু উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতেও পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি কার্গো সংগ্রহের পাশাপাশি গ্যাস বণ্টনে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের মোট সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে স্বাভাবিকভাবেই গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাখতে হয়। তাই শিল্পে বরাদ্দ কমে যায়। বর্তমান তথ্যেও তার প্রতিফলন স্পষ্ট।
কমেছে লোডশেডিং
গরম কিছুটা কমে বিদ্যুতের চাহিদা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় লোডশেডিং আগের তুলনায় কমেছে। গতকাল বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৭৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ৮৯৩ মেগাওয়াট। এর আগের দিন চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং হয়েছে এক হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহে গড়ে লোডশেডিং ছিল আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট। এর আগে ১০ আগস্ট লোডশেডিং উঠেছিল রেকর্ড তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে।
- বিষয় :
- বিদ্যুতায়ন
- তিতাস গ্যাস
- শিল্পকারখানা