ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংলাপে বক্তারা

গুম-মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বচ্ছ তদন্ত বাহিনী দিয়ে হবে না

গুম-মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বচ্ছ তদন্ত বাহিনী দিয়ে হবে না
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে গুম কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে দিয়ে তার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। তাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় থাকা সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন ২০২৬ (খসড়া): প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। ভয়েস ফর রিফর্ম ও নাগরিক কোয়ালিশন যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গুম কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন আট বছর গুমের শিকার ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদসহ অন্যরা।

ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ এবং র‍্যাবের নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত তিনটি আইনের খসড়ায় অদ্ভুত মিল রয়েছে। তিনটিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপরই রাখা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী ও বাহিনীর সদস্য, কারও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না।

তিনি বলেন, এসব আইনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারেন বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কারণ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।

ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান বলেন, প্রস্তাবিত আইনের খসড়াগুলোতে রাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেট’ কতটা শক্তিশালী, তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জনগণের নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব এ ধরনের আইন তৈরি করতে পারে না। বিরোধী দল সংসদে এসব খসড়ার বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের জন্য লড়াই করবে।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব একই বাহিনীর ওপর দেওয়া হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না বলে মন্তব্য করেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অপরাধীই যদি তদন্তকারী হয়, ন্যায়বিচার হবে কীভাবে?’

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে কারাদণ্ডের ঝুঁকি রাখা হয়েছে। এতে আগে থেকেই মানসিক আঘাতের মধ্যে থাকা পরিবারগুলো অভিযোগ করতে আরও ভয় পাবে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, বর্তমান সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো পরিকল্পনা বা ইচ্ছা না থাকলে এ ধরনের আইন করার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ দাবি করছেন, আগের সরকারের আমলে জঙ্গি দমনের জন্য মানবাধিকার সংকুচিত করা হয়েছিল। এ ধরনের বয়ান প্রতিরোধ করতে হবে।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। তাদের প্রধান দায়িত্ব শুধু সরকার বা কোনো দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেশাদার হিসেবে কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন

×