ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিঠি নিয়ে প্রশ্ন, নেপথ্যে পুকুরের লিজের টাকা!

চিঠি নিয়ে প্রশ্ন, নেপথ্যে পুকুরের লিজের টাকা!
×

ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বড় বায়শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকের পরিবারের দাবি, স্কুলের পুকুর লিজের টাকা স্থানীয় এক প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্যকে না দেওয়া এবং স্কুলে প্রভাব বিস্তারে বাধা দেওয়ায় এই ষড়যন্ত্রমূলক হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া ‘স্বাক্ষরবিহীন’ অভিযোগপত্র নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গুরুতর আহত শিক্ষক শাহ আলমকে বর্তমানে পুলিশ প্রহরায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (অর্থপেডিক্স) মোয়াজ্জেম হোসেন দিপু জানান, শিক্ষকের শরীরে মাংসপেশি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হাড় অক্ষত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের কাছে। পরদিনই গত মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সৌরভ সরকার ও ইলিয়াস মোল্লার নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোক স্কুলের অফিস কক্ষে ঢুকে শিক্ষক শাহ আলমকে বেধড়ক মারধর করে ‘মব’ সৃষ্টি করে। হামলার পর পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নিতে স্থানীয় একটি পক্ষ তড়িঘড়ি করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, উপস্থিতিদের কাছে লিখিত অভিযোগ চাইলে তারা ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে গিয়ে সাদা কাগজে হাতে লেখা একটি অভিযোগপত্র এনে দেয়। সেখানে ওই শিক্ষার্থীর কোনো স্বাক্ষর ছিল না এবং শিক্ষার্থী নিজেও উপস্থিত ছিল না।’
আহত শিক্ষকের বড় ভাই মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, স্কুলের পুকুর লিজের টাকা রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা দাবি করে আসছিলেন। শাহ আলম স্কুলের টাকা অন্য কাউকে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় তাঁর সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

শিক্ষকের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘সাবেক মেম্বার ইলিয়াস ও সৌরভ সরকারের চক্রটি স্কুলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। আমার স্বামী বাধা দেওয়ায় তারা সমাজপতিদের নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘটনাটি যৌন নিপীড়ন বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘আমি শিক্ষক শাহ আলমকে চিনিই না। পুকুরের লিজের টাকা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীর মা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। শিক্ষার্থীর চাচা সৌরভ সরকার হাতে লেখা চিঠির বিষয়ে বলেন, ‘ভাতিজির কথা হয়তো অন্য কেউ লিখে দিয়েছে, তবে কে লিখেছে তা আমার জানা নেই।’
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম লিকু লেখেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে আজ শিক্ষকদের হয়রানি ও মানসম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, ‘ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, স্কুলে ঢুকে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×