জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে বাস বাড়েনি
ছবি-সংগৃহীত
সাফা খাতুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৫ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পরিবারের সঙ্গে নরসিংদীতে থাকেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া (ছদ্মনাম)। সকাল সাড়ে ৮টার ক্লাসে উপস্থিত হতে তাঁকে প্রস্তুতি নিতে হয় ভোর সাড়ে ৪টা থেকে। সকালে ক্লাস ধরতে এবং বিকেলে ক্লাস শেষ হতেই ক্যাম্পাসের বাসে আসন দখলের দৌড়ে নামেন তিনি। অধিকাংশ দিন জায়গা না পেয়ে তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়েই যাতায়াত করতে হয়। আজকাল সাদিয়া আগে এসে আসন নেন, আর বাসের ভেতরে আসন সংখ্যার দ্বিগুণ শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে যেতে দেখেন।
ক্যাম্পাসের বাস না পেলে লোকাল বাস ছাড়া গতি নেই বলে সমকালকে জানালেন এই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘লোকাল বাসে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতা থাকে। এ ছাড়া হাফ ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের।’ আবাসিক হলের সংকটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা। কিন্তু বাসের স্বল্পতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো
শিক্ষার্থীর জীবনকে ক্লান্তিকর করে তুলছে বলে মনে করেন সাদিয়া।
বাসে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে একেবারেই নজর নেই প্রশাসনের। শিক্ষার্থী বাড়লেও বাসের সংখ্যা বাড়েনি। ২০২২ সালের নভেম্বরে একটি একতলা বাস সংযোজনের পর নতুন কোনো বাস দেওয়া হয়নি শিক্ষার্থীদের জন্য। বর্তমানে ৩৮টি বাসে মোট আসন ২ হাজারের কিছু বেশি। যাতায়াত করছেন পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। বাসে আসনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শিক্ষার্থী হওয়ায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত ভিড় আর দীর্ঘ অপেক্ষা। ভোগান্তির এসব চিত্র তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন গাজীপুর থেকে উল্কা-২ বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করি। বাসটির আসন মাত্র ৫০টি হলেও প্রতিদিন এতে শতাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন।’ তিনি আরও জানান, গাজীপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে যানজটের কারণে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় কাটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে জায়গা না পেলে বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে ওঠেন। বাসে হাফ ভাড়া নিয়ে প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়।
ইশতেহারের বাস্তবায়ন নেই
নির্বাচনি ইশতেহারের কোনো বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না–এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, ‘আমি কয়েকটি রুটে বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যে ভাঙ্গা রুট অন্যতম। তবে প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় এখনও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ফয়সাল আলম সুজন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বপ্নীল বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করি। বাসের আসন ৫০-৬০টি হলেও এতে শতাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীদের বাসের দরজায় ঝুলে যাতায়াত করতে দেখা যায়। এ নিয়ে ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে বা পরিবহন সম্পাদকের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেই এতদিনেও।’ দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আইরিন সুলতানা বলেন, ‘আমি কুমিল্লা রুটের গোমতি বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করি। আমাদের রুটে মাত্র একটি বাস চলে।’
নতুন অর্থবছরে নতুন বাসের বরাদ্দ
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারিক বিন আতিক সমকালকে বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি রুটে একতলা এবং ১৩টি রুটে দোতলা বাস চলাচল করছে। দোতলা বাসগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব, বাকি বাসগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১৬টি রুটে বাস এবং ৮টি রুটে শাটল বাস নিয়মিত চলছে।’
পরিবহন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ব্যস্ত রুটগুলোতে অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন বাস চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় নতুন
বাস কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আশা করছি, বর্তমান
উপাচার্যের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া যাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকট অনেকাংশে লাঘব করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘পরিবহন সংকট নিরসনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন পাঠিয়েছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে নতুন বাস কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যাবে।’
- বিষয় :
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
- পরিবহন