ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

দুদকে অভিযোগ করে নিজেই মামলার আসামি

দুদকে অভিযোগ করে নিজেই মামলার আসামি
×

ফাইল ছবি

হকিকত জাহান হকি

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:১৯

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগকারী এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মমিনুর রহমান নিজেই মামলার আসামি হলেন। তিনি পদ্মা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতি ঢাকতে কৌশল করে ২০২৪ সালের ৭ মে ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন দুদকে। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মমিনুর রহমানের অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ। দুদকের অনুসন্ধান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, ২০২৪ সালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মমিনুর রহমান বলেছিলেন, তার পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এই ব্যাংকে তিনি কখনও যাননি। কোনও ধরনের ঋণও নেননি।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেনা বেগম দুদককে বলেন, মমিনুর রহমান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। ঋণের জামানত হিসেবে তার মালিকানাধীন গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ইপাড়া মৌজার ৭৫.৪৫ শতাংশ জমির দলিল ব্যাংকে জমাও দিয়েছেন। এরপর দুদক ২০২৪ সালে গাজীপুর সদর সাব রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়ে ওই দলিলের সার্টিফাইড কপি চাইলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় কপি পাঠানো হয়। দুদক ব্যাংকে জমা দেওয়া দলিল এবং ওই সার্টিফাইড কপি মিলিয়ে দেখে- যা হুবহু। 

গত ২০১৭ সালে গাজীপুর সদরে সাব রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে নোয়াখালী জেলা রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে আছেন। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি দুদককে বলেছেন, ২০১৭ সালে মমিনুর রহমান তার কক্ষে হাজির হয়ে ৭৫.৪৫ শতাংশ জমির দলিল রেজিস্ট্রি করিয়েছেন।

পদ্মা ব্যাংকে জামানত হিসেবে জমা দেওয়া এই দলিলের সাক্ষী ও শনাক্তকারী ছিলেন মমিনুর রহমানের মামা সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মো. অজিত উল্লাহ। ঋণের ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা অজিত উল্লার মালিকানাধীন রানা ব্রিকস লিমিটেডের নামে পদ্মা ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পদ্মা ব্যাংকের গুলশান সাউথ অ্যাভেনিউ শাখা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা শাখা থেকে নগদে উত্তোলন করেন মমিনুর রহমান।

২০১৭ সালে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা ব্যাংকের সব প্রকার ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। ওই সময়কার ব্যাংকের এমডি ও সিইও আবদুল মোতালেব পাটওয়ারী তার ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই ঋণ অনুমোদন করেছিলেন। ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ঋণ বর্তমানে সুদ-আসলে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা হয়েছে। গত ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৭ মে পর্যন্ত সময়ে ওই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন আছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জালিয়াতি করে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে পদ্মা ব্যাংকের ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে কমিশন মামলার অনুমোদন দিয়েছে গত রোববার। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে আজ সোমবার কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার দশ আসামি হলেন, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী, এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মমিনুর রহমান, ব্যাংকের সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেনা বেগম, ব্যাংকের গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউ শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (এসডিপি) জর্জ কর্নেলিয়াস গমেজ, সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. রাসেল মিয়া, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন (এফভিপি) এম আতিফ খালেদ, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামছুল হাসান ভূঞা, সাবেক ম্যানেজার (অপারেশন) মাহবুব আহমদ, সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ (অফিসার) মো. কাওসার হোসেন ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. অজিত উল্লাহ। 

দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ধারায় মামলাটি করা হয়।

আরও পড়ুন

×