ইসরায়েলের গণহত্যা
শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর অভিযোগে গাজায় হামলা জোরদার
গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি নামানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েলের ড্রোন। ছবি: রয়টার্স
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৫৮
গাজা উপত্যকায় ঘুড়ি ওড়ানোর অভিযোগ তুলে ফিলিস্তিনে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। গত রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব স্থান থেকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন ওড়ানো হবে, সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা হবে।
আলজাজিরার খবর জানাচ্ছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিজেরাই স্বীকার করেছে, গাজা-সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা ১০টি কাগজের ঘুড়ির কোনোটিতেই বিস্ফোরক ছিল না এবং বাস্তুচ্যুত শিবিরের শিশুরা শুধু খেলার জন্যই সেগুলো ওড়াচ্ছিল।
ঘুড়ি ওড়ানোর অজুহাতে ইসরায়েলের করা হামলায় আজ-জাওয়াইদা এলাকার একটি গুদাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সালাহ আলদিন সড়কের কাছে হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহের আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতালের ভেতর আশ্রয়ে থাকা বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে চালানো ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা অজুহাতে চালানো এসব হামলার মূল লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন আনা এবং নেতানিয়াহুর নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক হুসাম শাহিন এবং ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞ আদেল শাদিদ মনে করেন, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্র শিশুদের কাগজের ঘুড়িকে ‘নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে দেখাচ্ছে। এই দাবি হাস্যকর।
হাসপাতালে হামলা ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্টের তদন্তে উঠে এসেছে, দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালে ‘ডাবল ট্যাপ’ হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ‘সম্ভবত’ সরাসরি যুদ্ধাপরাধ করেছে। খবর অনুযায়ী, প্রথম হামলায় রয়টার্সের ক্যামেরাপারসন নিহত হওয়ার পর সাংবাদিক ও চিকিৎসকরা সেখানে ছুটে যান। ৮ মিনিট পর সেখানে আরও দুটি গোলা বর্ষণ করা হয়। সরাসরি সম্প্রচারে রেকর্ড হওয়া এই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, হাসপাতাল বা উদ্ধারকর্মীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও সরাসরি যুদ্ধাপরাধ।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
হামলাটিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী একটি ‘ভুল’ হিসেবে দাবি করেছেন। তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে হামলার জন্য অন্তত ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের অগ্রিম অনুমোদন লাগে। ফলে এটিকে শুধু ভুল বলার সুযোগ নেই, এটি অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত হামলা।