মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) আইনের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বক্তারা
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:৪২
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) আইনের খসড়ায় কমিশনের স্বাধীনতা, কার্যকর তদন্ত ও পরিদর্শন ক্ষমতা, জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদ্বেগ এখনো রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বক্তারা। তা ছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনের খসড়াটি জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস না করে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবিও জানান তাঁরা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। সংস্থাটির মতে, বিদ্যমান খসড়ায় কমিশনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার বদলে সরকারি ‘নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই না যে সংসদে গিয়ে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়ে যায়। গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা ও ব্যক্তি খসড়াটি পর্যালোচনা করেছেন। তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে আশা করা যায়, সংসদ সদস্যরা খসড়াটি নিয়ে আরও আলোচনা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আলোচকদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁরা বুঝবেন, কেন এ ধরনের আইন তাঁদের কোনো কাজে লাগবে না।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ থাকবে না—এই কথাটি কিন্তু নেই। বলা হয়েছে যে তাঁরা স্বাধীন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, কিন্তু সেটাও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ যেটা আমরা চেয়েছিলাম, দেশবাসী চেয়েছিল যে এটা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।’
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতাকে যদি সংকুচিত করা হয়, তাহলে ওই তদন্তের কোনো মানে হয় না। যে তদন্তের প্রতিটি ক্ষেত্র অনুমোদনসাপেক্ষ হয়।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতার কথা তোলা হলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে তার তদন্ত করার ক্ষমতাটা।’
তদন্ত ও কমিশন গঠনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত করার আগের, পরের, তদন্তকালীন সময়ে পরিদর্শনের যে ক্ষমতা—যদি সর্বক্ষেত্রে প্রাক্-অনুমোদনের বিষয়টা থাকে, তাহলে এখানে আপনি খুব বেশি আগাতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে হত্যা বা ক্রসফায়ারের নামে, কথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ড—এইসব বিষয়ে আপনি যদি আপনার পূর্ণ স্বাধীনতাটা না থাকে কাজ করার, সেক্ষেত্রে জেতার কোনো সম্ভাবনা নাই।’
তিনি বলেন, ‘আইন যেমন আমাদের দরকার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করার, পাশাপাশি আমাদের সেরকম একটি কমিশন গঠন করতে হবে, বাছাই করতে হবে—যারা কিনা সৎ, সাহসী, যোগ্যতাসম্পন্ন। নাহলে স্বাধীন কমিশন গঠনও করতে পারবেন না।’
সভায় বক্তব্য রাখেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান, ওয়াইপিএসএর ইনক্লুশন অ্যাডভাইজার ভাস্কর ভট্টাচার্য, ব্লাস্টের প্যানেল আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী নওশীন নূর প্রমুখ।
- বিষয় :
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন