ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা

উপকূলের লবণাক্ত পানিতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

উপকূলের লবণাক্ত পানিতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
×

পানীয় জলের লবণাক্ততা ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: বাংলাদেশের প্রমাণ ও নীতিগত সুপারিশ’ শীর্ষক সেমিনার

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

উপকূলীয় এলাকায় খাবার পানির লবণাক্ততার সঙ্গে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। তাই নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে হবে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) গবেষণাটি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়। সোমবার মহাখালীতে আইসিডিডিআর,বির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে ‘পানীয় জলের লবণাক্ততা ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: বাংলাদেশের প্রমাণ ও নীতিগত সুপারিশ’ শীর্ষক সেমিনারে গবেষণার প্রাথমিক ফল প্রকাশ করা হয়। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সহযোগিতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কয়রায় খাবার পানির উৎসের ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশে লবণাক্ততা রয়েছে। আশাশুনিতে এ হার ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। লবণাক্ত পানি খাওয়ার কারণে দুই উপজেলার ৪০ বা তদূর্ধ্ব মানুষের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
গবেষকরা বলছেন, লবণাক্ত পানির মাধ্যমে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা আরও বাড়ছে।

আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ড. আলিয়া নাহিদ সেমিনারে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি জানান, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার ৭১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাধীন ১৭২টি গ্রামে খাবার পানির বিভিন্ন উৎসের লবণাক্ততা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট ২৭,৬৯৭টি পানির উৎস জরিপ করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৩টি, অর্থাৎ ২৪ দশমিক ২ শতাংশ উৎস খাবার পানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ড. আলিয়া বলেন, উপকূলীয় বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের পানিই এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। খাবার পানির মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

গবেষণার আরেক অংশে কয়রা ও আশাশুনির ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জনের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, তাদের ২১ দশমিক ৬ শতাংশ আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন, অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনে প্রায় একজন এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। কয়রায় এ হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আশাশুনিতে তা ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, উপকূলীয় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না; নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাকে একই কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। 

গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে পানি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্ত করে সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। এতে সচেতনতা বাড়ানো, পানির উৎসের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কম লবণাক্ত খাবার পানির প্রাপ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পাওলো ভিইনিস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ।

আরও পড়ুন

×