জ্বালানি রূপান্তরে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিপিএমআইয়ের যৌথ উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৭
বাংলাদেশের ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে দক্ষ জনশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছে জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল এনার্জি সলিউশনস এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই)। প্রতিষ্ঠান দুটি যৌথভাবে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে।
জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) কর্তৃক পরিচালিত এবং জিআইজেড বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের লক্ষ্য, টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে ভূমিকা রাখার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকৌশলী ও পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়ানো।
গত চার মাসে এ যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মোট ৭৭ জন পেশাজীবী সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জন সোলার ফটোভোলটাইক এবং ১৩ জন বায়ু বিদ্যুৎ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
এ অর্জন উদযাপন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে সোমবার ঢাকায় ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন: অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ডেভেলপিং এ স্কিলড ওয়ার্কফোর্স ফর দ্য পাওয়ার সেক্টর’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিপিএমআইয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যুৎ খাতে বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সরকার, ইউটিলিটি সংস্থা, শিক্ষাক্ষেত্র, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সোলার ফটোভোলটাইক, বায়ুবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) এবং হাইব্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তির যে চাহিদা তৈরি হবে, তা নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
ঢাকায় জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের কাউন্সেলর ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান উলরিখ ক্লেপমান বলেন, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য শুধু উপযুক্ত নীতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়। আধুনিক জ্বালানি অবকাঠামো পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং টেকসইভাবে চালিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা থাকা দক্ষ জনশক্তিও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিপিএমআইয়ের সঙ্গে জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতার যৌথ কার্যক্রম জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের জনশক্তির চাহিদা পূরণে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি চমৎকার উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিপিএমআইয়ের পাঠ্যক্রম আরও উন্নত করা এবং বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নের একটি শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও সুসংহত করার বিষয়ে আলোচকেরা সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিপিএমআইয়ের যৌথ এ উদ্যোগ টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি