ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

বিদিশা কারাগারে, জামিন আবেদন নামঞ্জুর

বিদিশা কারাগারে, জামিন আবেদন নামঞ্জুর
×

বিদিশা এরশাদ

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৫৭

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সাজা থেকে অব্যাহতি পেতে আপিল করার শর্তে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বুধবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিদিশার পক্ষে আইনজীবী সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার শর্তে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগ

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি দায়ের করেন মোশাররফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে রাজধানীর বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য তাঁদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডাকেন। সেখানে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন বাদী।

মামলায় আরও দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন

×