ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে ৪০০ মানুষের অংশগ্রহণে প্লাস্টিকবিরোধী পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কোম্পানীগঞ্জে ৪০০ মানুষের অংশগ্রহণে প্লাস্টিকবিরোধী পরিচ্ছন্নতা অভিযান
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩২

প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, জলাশয় ও স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান হয়েছে। বুধবারের এ কর্মসূচিতে প্রায় ৪০০ মানুষ অংশ নেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনআইডিও) যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনআইডিওর কারিগরি সহায়তা এবং নরওয়ে সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক মোসাম্মাৎ শওকত আরা কোলি। সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ও উপপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

ইউএনআইডিও বাংলাদেশের ন্যাশনাল এক্সপার্ট জুবায়ের বিন আরাফাত প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার থেকে শুরু করে সংগ্রহ, পুনঃব্যবহার, পুনর্ব্যবহার এবং চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা—পুরো জীবনচক্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক ও বায়োমেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। তিনি প্লাস্টিকের বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন ও ব্যবহারে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, পরিচ্ছন্ন কোম্পানীগঞ্জ গড়তে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী, তরুণ, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণকে শুধু পরিচ্ছন্নতার সমস্যা হিসেবে না দেখে খাল, নদী, কৃষিজমি, জলাশয়, উপকূল ও সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে হবে।

আলোচনা শেষে তিনি পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন। পরে তাঁর নেতৃত্বে বসুরহাট বাজারসংলগ্ন বসুরহাট খালে অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৪০০ অংশগ্রহণকারী খাল ও আশপাশের এলাকা থেকে প্লাস্টিক, পলিথিন, প্যাকেজিং বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা অপসারণ করেন। একই সঙ্গে বাজারের বর্জ্য যাতে খাল, ড্রেন ও জলাশয়ে না যায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ নেন। পাশাপাশি ‘পরিচ্ছন্ন ও প্লাস্টিকমুক্ত বাংলাদেশের জন্য অঙ্গীকার বোর্ডে’ অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাক্ষর করেন।

আয়োজকেরা জানান, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান এ উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। মানুষের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন

×