আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার রায় হতে পারে অক্টোবরে
আহসান উল্লাহ মাস্টার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৩৯
আওয়ামী লীগের নেতা ও গাজীপুরের সাবেক এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ চূড়ান্ত শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
আগামী ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট অবকাশ থাকায় অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে এ রায় ঘোষণা করা হবে। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা।
মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায়ে বিএনপির নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দুজন আসামি মারা যান। ২০০৫ সালে নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টে যায়। একইসঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট রায়ে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন বহাল রাখেন হাইকোর্ট। আর সাজা কমে সাতজনের। খালাস পান ১১ জন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন- নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু (৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান), হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ ও সোহাগ ওরফে সরু। যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয় টিপু ও নুরুল আমিনের।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম ও মশিউর রহমান ওরফে মনুকে। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পান আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়া।
একইসঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস পান মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর। পরে দণ্ডিত আসামিরা আপিল করেন।