ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়: রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি

অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়: রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি
×

জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:২৫ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৩৪

‘অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়’—অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির আগে কোনো কর্মকর্তা বা প্রকল্পকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করে সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।

বক্তারা বলেন, তারা কোনো ব্যক্তির অন্ধ সমর্থনে দাঁড়াননি। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থের পক্ষে তাদের অবস্থান। অডিট আপত্তি উঠলে অবশ্যই এর জবাবদিহি ও নথি যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে নিষ্পত্তির আগেই অডিট আপত্তিকে দুর্নীতির চূড়ান্ত রায় হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

তারা আরও বলেন, অভিযোগ, অডিট আপত্তি এবং প্রমাণিত অপরাধ—তিনটি এক বিষয় নয়। একই সঙ্গে প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী বানানোর বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প নিয়ে বিভিন্নভাবে সামনে আসা ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের দাবির প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, এ হিসাবের ভিত্তি জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। চুক্তিমূল্য, সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ও প্রকৃত ব্যয়ের পার্থক্যকে সরাসরি ‘অতিরিক্ত ব্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে আবেগের পরিবর্তে নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।

একটি বড় রাষ্ট্রীয় প্রকল্প কখনো একজন ব্যক্তি একা পরিচালনা করেন না। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন সময়ে এস কে চক্রবর্তী, সুকুমার ভৌমিক, গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মো. আফজাল হোসেন ও বর্তমানে নাজনীন আরা কেয়া প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই যে সময়ে যে কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা আলাদাভাবে অনুসন্ধানের দাবি জানান তারা।

কে কাজের পরিমাণ ও গুণগত মান যাচাই করেছেন, কে বিল ভেটিং করেছেন, কে অনুমোদন দিয়েছেন এবং কোন নথির ভিত্তিতে অর্থ ছাড় হয়েছে—এসব বিষয় অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, এতে প্রকৃত দায় নির্ধারণ সহজ হবে। কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া যেমন আমাদের উদ্দেশ্য নয়, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করতেও চায় না।

বর্তমান মহাপরিচালকের প্রসঙ্গেও একই অবস্থান জানিয়ে তারা বলেন, ওনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রশাসনিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে কারিগরি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে বারি, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়নের আনারুল হক হনি, মাহাবুবুর রহমান, মো. শাহাজাহান সরকার, এস কে খোদা তোতনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

বক্তারা বলেন, আমাদের মূল দাবি—‘অপপ্রচার নয়, প্রমাণ চাই; অভিযোগ নয়, তদন্ত চাই; দুর্নীতি হলে শাস্তি চাই, আর নির্দোষ হলে ন্যায়বিচার চাই।’

আরও পড়ুন

×