ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের ক্যানসার শনাক্ত করবে কুকুর, গবেষণায় যুক্ত হলো এআই

মানুষের ক্যানসার শনাক্ত করবে কুকুর, গবেষণায় যুক্ত হলো এআই
×

কুকুরের সঙ্গে খেলছেন এক প্রশিক্ষক। সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে ডগনোসিসের কার্যালয়ে। ছবি: এএফপি

এএফপি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৩৫

ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর একটি স্টার্টআপ কোম্পানি ক্লোয়ি নামের কুকুরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তার কাজ হবে মানুষের নিশ্বাসের ঘ্রাণ থেকে ক্যানসার শনাক্ত করা। এ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কিছুটা সাহায্য নেওয়া হবে। মানুষের শরীরের সঙ্গে কুকুরের সরাসরি স্পর্শেরও দরকার হবে না।

কুকুরের ঘ্রাণশক্তি অসাধারণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের ক্যানসার, পারকিনসন ও কোভিড-১৯ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগ শনাক্তে কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব।

এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ডগনোসিস’ নামের ওই স্টার্টআপটি কুকুরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তারা কুকুরের মাথায় থ্রিডি প্রিন্ট করা সেন্সরযুক্ত একটি হেলমেট বসিয়েছে। মানুষের নিশ্বাসের ঘ্রাণ নেওয়ার পর কুকুরের মস্তিষ্কে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তা বিশ্লেষণ করতে এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেই প্রতিক্রিয়াকে তথ্যে রূপ দেওয়া হয়।

মাথায় বিশেষ হেলমেট পরা একটি কুকুর ঘ্রাণ নিচ্ছে। ছবি: এএফপি

ডগনোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা আকাশ কুলগোদ (২৬) এএফপিকে বলেন, ‘কুকুর এক ঘণ্টায় কয়েক হাজারবার ঘ্রাণ নিতে পারে। প্রতিটি ঘ্রাণের মাধ্যমে একটি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব।’ ডগনোসিস আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরুর আশা করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জার্মানি ও ইসরায়েলের দুটি প্রতিষ্ঠানের পর এটি হবে এ ধরনের তৃতীয় কোম্পানি।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাথমিক অবস্থাতেই ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে নিরাময়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। ভারতে সাধারণত চূড়ান্ত আকার ধারণ করার পর অধিকাংশ রোগী ক্যানসার পরীক্ষা করান।

স্টার্টআপটির সহপ্রতিষ্ঠাতা আকাশ কুলগোদ যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে কগনিটিভ সায়েন্সে পড়াশোনা করেছেন। যে ধরনের কুকুরগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো ল্যাব্রাডর জাতের মিশ্র প্রজাতির।

ডগনোসিস উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছে অ্যাক্সেল ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান। তারা বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমোদন পেতে সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণায় সহযোগিতা করছে। 

কীভাবে কাজ করে?
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো রোগের কারণে শরীর থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থে পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে শরীরে স্বতন্ত্র গন্ধ তৈরি হয়। মানুষের নাকে সাধারণত ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য ৫০ লাখ কোষ থাকে। বিপরীতে কুকুরের আছে প্রায় ৩০ কোটি। 

ঘ্রাণের প্রতি কুকুরের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়াকে এআইয়ের সাহায্যে তথ্যে রূপ দেওয়া হয়। ছবি: এএফপি

ডগনোসিসের পরীক্ষার পদ্ধতিটি সহজ। একজন ব্যক্তি প্রায় ১০ মিনিট একটি তুলার মাস্কে শ্বাস নেন। এরপর মাস্কটি একটি ব্যাগে সিল করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে রোগীদেরকে কুকুরের সংস্পর্শে যেতে হয় না।

দেড় হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত ডগনোসিসের একটি গবেষণা সম্প্রতি জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজিতে প্রকাশ হয়েছে। কর্ণাটক রাজ্যের ছয়টি হাসপাতাল ওই গবেষণায় যুক্ত ছিল। ডগনোসিসের দাবি, পরীক্ষায় ক্যানসারের সাতটি প্রধান ধরন শনাক্তে তারা ৯০ শতাংশ নির্ভুল তথ্য পেয়েছেন। 

ডগনোসিসের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা ইতামার বিটান (২৮) ইসরায়েলের একটি বিশেষ বাহিনীর ডগ ইউনিটে চার বছর কাজ করেছেন। তিনি জানান, কুকুরগুলোকে পুরস্কারের আশা দেখিয়ে ঘ্রাণ নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

‘স্নিফস্পেস’ নামে একটি কেন্দ্রে স্বয়ংক্রিয় ফিডারযুক্ত প্ল্যাটফর্মে কুকুরগুলো মানুষের নমুনা পরীক্ষা করে। বিটান বলেন, নমুনার প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে কুকুরগুলো স্থির হয়ে যায়, কিংবা উত্তেজনায় আঁচড়াতে থাকে। একই সময়ে একটি মেশিন কুকুরগুলোর প্রতিক্রিয়া শিখে নেয়।

প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত নন এমন কয়েকজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ আশা ও সংশয়- উভয়ই ব্যক্ত করেছেন। বেঙ্গালুরুর রামাইয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান সন্তোষ কুমার দেবদাস বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে গবেষণাটি আশাব্যঞ্জক। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও বড় গোষ্ঠীর ওপর গবেষণা চালাতে হবে।

ম্যানিপাল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট অনকোলজিস্ট নীলেশ রেড্ডি এএফপিকে বলেন, যারা আসলেই ক্যানসারের রোগী তাদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

আরও পড়ুন

×