নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পুরো দায়িত্ব শুধু কারখানার নয়
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর এবং জ্বালানি সার্বভৌমত্বকে শিল্প কৌশলের কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তা এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। গত সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে এক সম্মেলেন তারা এই প্রয়োজনীতার কথা জানান।
এথিকাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ (ইটিআই) বাংলাদেশ আয়োজিত সম্মেলনে তৈরি পোশাক কারখানার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর প্রতিনিধি ছাড়াও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি ও কারিগরি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইটিআই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আবিল বিন আমিন ন্যায়সংগত ও সমন্বিত জ্বালানি রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ব্যয় শুধু কারখানা ও শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহায়তা প্রয়োজন।
বিকেএমইএর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্জো বলেন, শুধু কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, নির্ভরযোগ্য গ্রিড বিদ্যুৎ, উপযুক্ত জমিতে বৃহৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এবং যথাযথভাবে মূল্যায়িত জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এনার্জি অপটিমাইজেশনের চেয়ারম্যান নিশাত নাহরিন হামিদ ৪৫৩টি কারখানার ওপর পরিচালিত একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কারখানায় ১৬৫ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট অব্যবহৃত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগ ব্যয়, ছাদের সীমিত জায়গা, পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তার অভাব এবং সাশ্রয়ী অর্থায়ন পাওয়ার জটিলতা বিশেষত ছোট কারখানার ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পথে বাধা হয়ে রয়েছে।
লিনডেক্সের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপক কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, জ্বালানি রূপান্তরের পুরো দায়িত্ব শুধু কারখানার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বিএসআইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনে বিলম্ব, অস্পষ্ট মূল্য নির্ধারণ, করব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত প্রাথমিক অর্থায়নের অভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হচ্ছে।
সম্মেলনের প্রথম কর্ম অধিবেশনে ইটিআই বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার প্রিয়ং সাবাস্তিনি এবং ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ক্লিন-এর হিসাব অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হলে বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা ফার্নেস অয়েল ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে।
হা-মীম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার আশিস কুমার বসাক জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে তাদের ব্লেন্ডেড বিদ্যুৎ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ১ থেকে ১ দশমিক ২৫ টাকা কমেছে। বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার আনুমানিক সময় সাড়ে চার থেকে ছয় বছর।
- বিষয় :
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি