গাজী মাজহারুল আনোয়ারের গান ও জীবনের গল্প
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৩ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিছু গান শুধু গান হয়ে থাকে না; হয়ে ওঠে সময়ের স্মৃতি, মানুষের আবেগ আর দেশের ইতিহাসের অংশ। সেসব কালজয়ী গানের স্রষ্টা গীতিকার, সুরকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকে স্মরণ করে গতকাল মঙ্গলবার ‘দি আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’ আয়োজন করে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার।
রাজধানীর বনানীতে ‘আইকনিক টুইজডে’র আয়োজনে উঠে আসে প্রয়াত এই শিল্পীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, সৃষ্টির নেপথ্যের গল্প এবং দেশের সংস্কৃতিতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অবদানের নানা দিক। সন্ধ্যার এই আয়োজনে গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তাঁর সহধর্মিণী জোহরা গাজী ও ছেলে সরফরাজ আনোয়ার উপল।
স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জোহরা গাজী বলেন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার ছিলেন দেশপ্রেমিক। দেশের সংকট মুহূর্তে তাঁর হাতে কলম উঠে আসত। কর্মজীবনে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। বিবিসির এক জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় তাঁর তিনটি গান স্থান পাওয়াকে তিনি পুরো জাতির জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার অত্যন্ত সৎ, চরিত্রবান, পরোপকারী ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন। কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অসাধারণ। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এই মানুষটি নিজের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
বাবার প্রসঙ্গে সরফরাজ আনোয়ার উপল বলেন, একটি দেশের সমৃদ্ধির পেছনে সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন আমার বাবা।
বাবার বিপুল সৃষ্টির নেপথ্যের গল্প সংরক্ষণের উদ্যোগের কথাও জানান উপল। তিনি বলেন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার ২০ হাজারের বেশি গান লিখেছেন এবং ৪১টি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনা করেছেন।
মুমিন বিশ্বাসের সহযোগিতায় গাজী মাজহারুল আনোয়ার প্রায় পাঁচ হাজার গানের নেপথ্য কাহিনি লিখে রেখে গেছেন বলে জানান উপল। সেগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বইমেলায় বইটি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও সুর করা বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী অভিজিৎ দে, চৈতি মুৎসুদ্ধি ও শামামা তাহমিদ।
‘দি আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’-এর সভাপতি সুজিত মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সৃজনশীল ক্ষেত্রে অবদান রাখা আইকনিক ব্যক্তিত্বদের পরিচিতি, অনন্য সৃষ্টিকর্ম এবং তাদের জীবনের নানা গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
- বিষয় :
- গাজী মাজহারুল আনোয়ার
- স্মরণ