শতকণ্ঠে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানে নৃত্য পরিবেশন করে একদল শিল্পী। গতকাল শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্মরণ করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যকে। বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় আয়োজনটি।
মূলত কাজী নজরুল ইসলামের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানটির শতকণ্ঠে শতবর্ষ উদযাপন এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতকণ্ঠ পরিবেশনায় অংশ নেন গণসংগীত সমন্বয় পরিষদভুক্ত বিভিন্ন দলের শিল্পীরা। পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী অনিক বসুর পরিচালনায় স্পন্দনের শতজন নৃত্যশিল্পী অংশ নেন শতকণ্ঠে নৃত্য পরিবেশনায়। গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা ও শিল্পবৃত্তের ৫০ শিশু-কিশোর আবৃত্তি পরিবেশন করে। বিভিন্ন দলের শিল্পীরা দলীয়ভাবে পরিবেশন করেন নজরুলের চেতনার গান, সুকান্তের দ্রোহের গান ও রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর লেখা ‘পুরনো ধাঁধা’ ছড়াটির সংগীত ও আবৃত্তিও পরিবেশিত হয়।
‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ রচনার সময়েই নজরুল লিখেছিলেন প্রবন্ধ ‘মন্দির ও মসজিদ’। অনুষ্ঠানে সেই প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী জাহিদ মোস্তফা। একক আবৃত্তি করেন ইকবার খোরশেদ জাফর (রবীন্দ্র), মাহফুজা মিরা (নজরুল) ও সাফিয়া খন্দকার রেখা (সুকান্ত)।
গণসংগীত সমন্বয় পরিষদভুক্ত দলগুলোর পরিবেশনায় তিন কবির বিভিন্ন গানও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। ঋষিজ পরিবেশন করে নজরুলের ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ ও সুকান্তের ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন’। ক্রান্তি পরিবেশন করে নজরুলের ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম’ ও ‘জাগো অনশন বন্দী ওঠো রে’।
সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে নজরুলের ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’ এবং সুকান্তের ‘হে মহামানব, একবার এসো ফিরে’। রংধনু পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের ‘খরবায়ু বয় বেগে’ ও নজরুলের ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’।
বহ্নিশিখা পরিবেশন করে সুকান্তের ‘কারা যেন আজ দুহাত খুলেছে’। আনন্দন পরিবেশন করে সুকান্তের ‘হে সাথী আজকে স্বপ্নের দিন’ ও রবীন্দ্রনাথের ‘সংকোচের বিহ্বলতা’। সপ্তরেখার পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ ও ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’।
সমস্বর পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের ‘নাই নাই ভয়’ ও ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’। মিরপুর সাংস্কৃতিক একাডেমি পরিবেশন করে সুকান্তের ‘হে মহাজীবন, আর’ এবং ‘বলতে পারো বড়লোকে’।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান।
- বিষয় :
- সংস্কৃতি