দৃকে গাজামুখী অভিযানের গল্প নিয়ে প্রদর্শনী
রাজধানীর পান্থপথের দৃকপাঠ ভবনে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’ সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা তিন ফ্লোটিলা অ্যাক্টিভিস্টের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সংহতির গল্প নিয়ে রাজধানীর দৃকপাঠ ভবনে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পান্থপথের দৃকপাঠ ভবনে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
দৃক পিকচার লাইব্রেরির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট জুবায়ের ইসলাম খান ও মোহাম্মদ আলী (লিয়াকত) এবং আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমের গাজামুখী যাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। অবরুদ্ধ গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর আরোপিত ইসরায়েলি অবরোধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা এ অভিযানে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন অ্যাক্টিভিস্টের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান এবং দৃকের জেনারেল ম্যানেজার ও প্রদর্শনীর কিউরেটর এএসএম রেজাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এএসএম রেজাউর রহমান বলেন, এটি মূলত তিনজনের অভিজ্ঞতার একটি সরল উপস্থাপনা। প্রদর্শনীতে ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারের একটি শৈল্পিক উপস্থাপনাও রাখা হয়েছে। শিল্পী সোফিয়া করিম তিন অ্যাক্টিভিস্টের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কয়েকটি ঘটনার মডেল নির্মাণ করেছেন, যা প্রদর্শনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আলী (লিয়াকত) বলেন, গ্যালারিতে প্রদর্শিত ছবিগুলো শুধু তাদের যাত্রার স্মারক নয়; বরং ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। যাত্রাপথে আমাদের আটক করা হয়েছে, হয়রানি ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে, এমনকি কয়েকজন আহতও হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কয়েকজন সহযোদ্ধাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। প্লাস্টিক বুলেটের আঘাতে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতার চেয়ে ফিলিস্তিনিদের চলমান মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুবায়ের ইসলাম খান জানান, এই মিশন তাঁকে মাতৃভূমির সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করেছে। বাংলাদেশের পতাকা এবং এর প্রতিনিধিত্ব করা মূল্যবোধ সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শহিদুল আলম বলেন, প্রদর্শনীতে দুটি ভিন্ন ফ্লোটিলা অভিযানের অভিজ্ঞতাকে একত্র করা হয়েছে। একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে, অন্যটি চলতি বছরের মে মাসে। দুটি অভিজ্ঞতাকে একসঙ্গে উপস্থাপন করায় দর্শকরা পুরো ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাবেন। অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের কথাও মনে রাখতে হবে। কারণ তারাও এই সময়ে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক সরকার যখন নীরব ছিল, তখন বাংলাদেশের নেতারা তাদের অভিযানে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি শুধু কথায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এর জন্য সাহস, ত্যাগ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা উচ্ছেদ, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হলেও নিজেদের সংগ্রাম থেকে সরে আসেননি। স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের জন্য তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
আয়োজনের অংশ হিসেবে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিন অ্যাক্টিভিস্ট তাদের অভিন্ন অভিজ্ঞতা দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন।
- বিষয় :
- প্রদর্শনী