ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের ভেতরে আবার নবপ্রাণ সঞ্চারে মঞ্চস্থ ‘রক্তকরবী’

মানুষের ভেতরে আবার নবপ্রাণ  সঞ্চারে মঞ্চস্থ ‘রক্তকরবী’
×

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নাটক রক্তকরবী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত নাটকটির একটি দৃশ্য -সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানবিকতা ও আত্মমুক্তির আহ্বান নিয়ে মঞ্চস্থ হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নাটক রক্তকরবী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরামের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নিজস্ব অডিটোরিয়ামে প্রথম মঞ্চায়ন হয়। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় একই স্থানে হবে দ্বিতীয় মঞ্চায়ন।
থিয়েটার ফোরাম বছরে মূলধারার একটি নাটক মঞ্চায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই উদ্যোগের প্রথম প্রযোজনা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রক্তকরবীকে। নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন শ্রেয়শ্রী সরকার এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ড. মাহফুজা হিলালী।

নাট্যনির্দেশক শ্রেয়শ্রী সরকার বলেন, রক্তকরবী আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশ যেন এক একটি যক্ষপুরীতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ পরিণত হয়েছে শাসকের ছিবড়ায়। তাদের ভেতরে প্রাণ নেই, তারা কেবল মেশিনের মতো কাজ করে চলে। ফুল, পাখি, আকাশ কিংবা বৃষ্টি দেখে তাদের মন আর নেচে ওঠে না। ফলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, অমানবিকতা ও অনৈতিকতা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়।
শ্রেয়শ্রী সরকার আরও বলেন, মানুষের ভেতরে আবার প্রাণসঞ্চার করতে নন্দিনীকে প্রয়োজন। নন্দিনী শুভশক্তির প্রতীক, কল্যাণের পথে তার যাত্রা। সে আত্মার মুক্তি ঘটায়। যন্ত্রসভ্যতার করাল থাবায় নিষ্পেষিত মানুষের মুক্তির জন্য তাই আবারও রক্তকরবীর মালা চূড়ায় পরতে হবে। যার প্রভাবে শোষক নিজেই নিজের ব্যবস্থা ভেঙে শোষিতের পাশে এসে দাঁড়াবে এবং শোষিতও জেগে উঠবে আত্মমুক্তির জয়গানে।

নাটকের মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় তথা বিশ্বপরিমণ্ডলে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সুস্থ ধারা প্রবাহিত করার প্রত্যয় থেকেই থিয়েটার ফোরামের এই পথচলা বলে জানান শ্রেয়শ্রী সরকার। 
রক্তকরবীর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাফিসা জান্নাত, জুয়াইরিয়া আব্বাসি, প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা, তরিকুল আলম জীম, শুভজ্যোতি চক্রবর্ত্তী, পূর্ণিমা দাস প্রীতি, সাফওয়ান ফাদলুল্লাহ, মো. তামজিদ ইসলাম, রওনক জাহান লামিয়া, আসফিয়া হক, সারবিনা বিনতে জাফর, নিশাত তাসনিম ফারিহা, তাজবীদ মুহতাসিম, দিহান চৌধুরীসহ অনেকে ।

মঞ্চ পরিকল্পনা ও সহযোগী নির্দেশনায় জেরিন চাকমা, মঞ্চ নির্মাণ সহযোগিতায় মো. মুসতাকিন মিয়া ও প্রীতি দাশ, সংগীত আয়োজনে রবিউল ইসলাম শশী, পোশাক পরিকল্পনায় সাদিয়া নিশা, আলোক পরিকল্পনায় আহসান হাবীব বিপু,  রূপসজ্জা, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা, প্রচার ও অনুষ্ঠান আয়োজনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন ফোরামের সদস্যরা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যক্ষপুরীর অন্ধকারে নন্দিনীর আগমন যেমন প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনে, তেমনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরামের এই উদ্যোগও তরুণদের নাট্যচর্চায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সময়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা রক্তকরবী তাই মঞ্চে ফিরে এসেছে নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের কণ্ঠে মানুষকে আবার মানুষ হয়ে ওঠার আহ্বান নিয়ে।
 

আরও পড়ুন

×