চিত্রে ফিরে দেখা জুলাই
প্রতিরোধের স্মৃতি ও আগামীর প্রত্যয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে শহীদদের স্মরণে জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয়েছে চিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাইয়ের স্মৃতি ও সম্ভাবনা’। সমগীত আয়োজিত এই প্রদর্শনী গতকাল শুক্রবার বিকেলে শুরু হয় সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্মৃতির ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে রক্তঝরা জুলাইয়ের দিনগুলো। একইসঙ্গে ধরা দিয়েছে এক নতুন ভোরের প্রত্যাশা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে শহীদদের স্মরণে জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয়েছে চিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাইয়ের স্মৃতি ও সম্ভাবনা’।
সংস্কৃতিভিত্তিক সংগঠন সমগীত আয়োজিত এই প্রদর্শনীর পসরা বসেছে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী চিত্রশালায়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের পর্দা ওঠে।
শিল্পকর্মের এই অনন্য আয়োজনের কিউরেটর শিল্পী মোস্তফা জামান। প্রদীপ জ্বালানোর কৃত্রিমতা ছেড়ে একে জনতার উদ্বোধন হিসেবে আখ্যায়িত করেন অতিথিরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শিল্পী অমল আকাশ, সমগীতের সভাপ্রধান রেবেকা নীলা এবং সহসভাপ্রধান বীথি ঘোষ। শিল্পানুরাগী মানুষ আর অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের উপস্থিতিতে পুরো চিত্রশালা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সেই প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা এবং এর মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া সম্ভাবনার বিভিন্ন মাত্রা প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলোয়
প্রকাশ পেয়েছে।
ক্যানভাসে ফুটে ওঠা ক্ষোভ ও জাগরণের ছবি নিয়ে কথা বলেন অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের আগের শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধও প্রদর্শনীর ছবিতে দৃশ্যমান হয়েছে।’
শিল্পের মাধ্যমে গণমানুষের এই উচ্চারণকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় জানান আয়োজকেরা। শিল্পী অমল আকাশ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পী এবং এর নেপথ্য কারিগর কিউরেটর মোস্তফা জামানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জুলাই আন্দোলনের আবেগ ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে সমগীতের সভাপ্রধান রেবেকা নীলা বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের স্মৃতি এখনও মানুষের মধ্যে জীবন্ত। এ অঞ্চলের গণমানুষের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যে সংগ্রামের ইতিহাস, তার নানা মাত্রা এই প্রদর্শনীতে শিল্পের মাধ্যমে উঠে এসেছে।
প্রদর্শনীতে নিজেদের তুলিতে জুলাইকে ধারণ করেছেন ১০ জন শিল্পী। তাঁরা হলেন–রোকেয়া সুলতানা, শামসেত তাবরেজী, সুমন হালদার, শাওন চিশতি, সুমনা আক্তার, নাফিউজ্জামান নাফি, আফসানা শারমিন ঝুম্পা, রাসেল রানা, কাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও রক্তিম বিশ্বাস।
উদ্বোধনী আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন অরূপ রাহী, ফেরদৌসি রীতা, নাভা মাহাজাবিন, জান্নাতুল মাওয়া, শিল্পী বড়ুয়া, আবুল হাসান রুবেল ও বাকী বিল্লাহ।
জুলাইয়ের স্মৃতি, গণমানুষের প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ প্রদর্শনী তাই শুধু অতীতকে স্মরণ করার আয়োজন নয়; শিল্পের মাধ্যমে
সেই অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে পুনর্পাঠেরও একটি প্রয়াস।
জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী চিত্রশালায় প্রদর্শনীটি চলবে আগামী সোমবার পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে।
- বিষয় :
- জুলাই গণহত্যা