ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তওবা ছাড়া সাদ কান্ধলভীকে আসতে না দেওয়ার ঘোষণা হেফাজতে আমিরের

তওবা ছাড়া সাদ কান্ধলভীকে আসতে না দেওয়ার ঘোষণা হেফাজতে আমিরের
×

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৩৪

তওবা ছাড়া সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেছেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম দ্বারা পরিচালিত হবে।

শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) সম্মেলনে হেফাজতের আমির এ কথা বলেন। ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে। 
মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র। তাঁকে তাবলিগ জামায়াতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের একাংশ নিজেদের আমির মানেন। কোরান শিক্ষা দিয়ে অর্থগ্রহণ হারাম- সাদ কান্ধলভীর বক্তব্যের কারণে দেওবন্দিধারার আলেমরা তাঁর বিরুদ্ধে। 
বক্তব্য থেকে সরে না আসা পর্যন্ত দেওবন্দের অনুসারী বাংলাদেশের আলিমরা সাদ কান্ধলভীকে টঙ্গীর ইজতেমায় আসতে না দিচ্ছেন না। তিনি আসতে না পারলেও তাঁর অনুসারীরা পৃথক ইজতেমা করেছেন। দুই পক্ষের দুই দফা প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হচ্ছে।

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সরকারের উদ্দেশে হেফাজত আমির বলেন, সাদ কান্ধলভী তওবা করে যত দিন দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করবেন, তত দিন তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না। 

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজামের পরিচালনার দাবি করে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চলবে। সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে এনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করতে হবে। 
হেফাজতের আমির বলেন, তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের অনেকে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর’। 

সম্মেলনে ঘোষণাপত্রে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে না দেওয়াসহ নানা দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×