ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মৃত্যু
এবার ‘আসল আসামি’ ধরার দাবি করল ডিবি
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৩ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৬
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার দু্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া মো. খোকন ও রাজিব মাতুব্বরই (৩৬) ছিনতাই এবং রনজিলা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার সময় রাজিব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং খোকন পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগ ধরে টান দেন।
বুধবার মিন্টোরোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়।
এর আগে একই ঘটনায় ৩০ আগস্ট তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-২ (বিলুপ্ত র্যাব) দাবি করেছিল, গ্রেপ্তার হওয়া মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি প্রধান সন্ধিগ্ধ এবং সেন্ড্রিক ও রাকিব তার সহযোগী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি ছিনতাই কাজে ব্যবহারের কথাও বলেছিল র্যাব। মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিব। তারা বর্তমানে কারাগারে।
অবশ্য সেসময় মোটরসাইকেলের রঙ ও তাদের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পনি দাবি করেছিলেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ঘটনার ১৮ দিন পর ডিবি খোকন ও রাজিবকে গ্রেপ্তারের পর বলছে, এই দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এসআরবির হাতে গ্রেপ্তাররা জড়িত ছিলে না। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার দুজন এবং এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ভিন্ন দুটি গ্রুপের। এসআরবি যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল সেটিও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হয়নি।
মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং নিহত রনজিলার লুণ্ঠিত ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথাও বলছে ডিবি। সংবাদ সম্মেলনে রনজিলার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রনজিলার স্বামী আবদুল মতিন সমকালকে বলেন, উদ্ধার করা মালামাল তার স্ত্রীর। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারাই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশের কাছে তারা স্বীকারও করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বগুড়া থেকে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে এসে ২৯ আগস্ট ভোরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শিক্ষিকা রনজিলা ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ থেকে হ্যাঁচকা টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান রাস্তায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই রিকশায় তার স্বামী আবদুল মতিনও ছিলেন। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারী খোকন ও রাজিবকে শনাক্ত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার গজারিয়ায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খোকনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে রনজিলার ব্যবহৃত পোশাক, বাসের টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। মিরপুর-১ থেকে রনজিলার মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। এরপর রাজিব মাতুব্বরকে বিরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে ৬২২ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। তার তথ্যের ভিত্তিতে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ডিবি বলছে, এই মোটরসাইকলেটি সেদিন ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ঘটনার সময় রাজিব মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি তার নিজের। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ আটটি মামলা রয়েছে। খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে।
এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার তিনজন জড়িত নয়: ডিবি
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা রনজিলা হত্যার ঘটনায় জড়িত নয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে খোকন ও রাজিবকে শনাক্ত করা হয়।
ডিবি প্রধান বলেন, এসআরবি তখন ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখার পর পার্থক্য পাওয়া যায়। ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রং এবং র্যাবের উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের রং ভিন্ন। আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের এই মামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে তাদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তবে পনির বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা আছে।
এ বিষয়ে এসআরবি-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান সমকালকে বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলছি, তিনজনকে সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পনির সঙ্গে রাজিবের চেহারার অনেকটা মিল আছে। তাই সন্দেহভাজন হিসেবেই গ্রেপ্তার করা হয়। আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। তদন্তে না আসলে তারা ওই মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মোটরসাইকেলটি রনজিলার স্বামীকে দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের মোটরসাইকেলেই ছিনতাইকারীরা এসেছিল।
- বিষয় :
- ছিনতাইকারীর হাতে নিহত
- ডিবি
- র্যাব
- এসআরবি