অভিমত
নির্বাচন নিয়ে সরকার ও ইসির মধ্যে দূরত্ব থাকা অনুচিত
ড. আব্দুল আলীম। ছবি-সংগৃহীত
ড. আব্দুল আলীম
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৭
সরকারের অনুরোধে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু আমরা নির্বাচনের ইতিহাস থেকে দেখে আসছি, নির্বাচন কমিশন সবসময় সরকারের সঙ্গে এক ধরনের সমন্বয় করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ বা তপশিল ঘোষণা করে।
এবার নির্বাচন কমিশন গত সোমবার কোনো তপশিল ঘোষণা করেনি। যেটা করেছে, তা হলো সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যেহেতু ধাপে ধাপে হয়, সেই সম্ভাব্য ধাপের তারিখ। এখানে পূর্ণাঙ্গ কোনো তপশিলের কথা বলা হয়নি। কাজেই এটাকে আমার কাছে মনে হয়, খুব বড় করে দেখার সুযোগ নেই। ফলে সম্ভাব্য মানে সেটা যে কোনো সময় পরিবর্তন করা যেতেই পারে। শুধু তা কেন; দেশে তপশিলের পরিবর্তনও হয়েছে অনেকবার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার তপশিলের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় জিনিস হলো নির্বাচনের স্পিরিট– সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করা। এটার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই করার সুযোগ আছে।
কাজেই এই যে সম্ভাব্য বা প্রাথমিক তারিখ– আমরা যা-ই বলি না কেন, এটা খুবই নগণ্য বিষয়। এ নিয়ে যদি আমরা বেশি কথা বলি, তাহলে জনগণের কাছে এক ধরনের বার্তা যাবে– নির্বাচন কমিশন ও সরকার বোধ হয় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে। এটা কোনো অবস্থাতেই ঠিক না। কারণ এটা খুবই ছোট একটা বিষয়।
পরে নির্বাচন কমিশন থেকেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, এটা প্রাথমিক বা সম্ভাব্য তারিখ। এটা তারা চূড়ান্ত করেনি। যেহেতু চূড়ান্ত করেনি, তাই এ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করার কিছু নেই। আরেকটা কথা থেকে যায়, সরকারের পক্ষ থেকে কিন্তু একাধিকবার এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, ধারণা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও মন্ত্রী থাকা অবস্থায় নির্বাচনের সময় নিয়ে কথা বলেছেন। কয়েক দিন আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও বলেছেন, এই অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বার্তাগুলো থেকে নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা পেয়েছে। যেহেতু সরকার এভাবে বলছে, কাজেই সম্ভাব্য তারিখ চিন্তা করতেই পারি। আমার কাছে মনে হয়, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত দ্রুত করা সম্ভব ততই মঙ্গল। দেশের জন্য মঙ্গল, জনগণ ও সরকারের জন্যও মঙ্গল। কারণ সরকারের যে কর্মসূচি, প্রতিশ্রুতি, সেগুলো বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার এবং পরিষদগুলো। ইউনিয়ন পরিষদ সরাসরি জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ করে। স্থানীয় পরিষদে যদি নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকে, তাদের জবাবদিহি ভালো থাকে। তারা জনগণের দিকে তাকিয়ে কাজ করে। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির জন্য এটা মঙ্গলজনক হবে। কারণ তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। এ কারণেই নির্বাচন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয়ে যাওয়া ভালো। সরকার ও ইসির মধ্যে নির্বাচন নিয়ে চিঠি চালাচালি হয়ে থাকলে এক ধরনের যোগাযোগ তো হয়েছেই। যোগাযোগ হওয়ার পর এ ধরনের দূরত্ব থাকা অনুচিত।
‘নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন’-এর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর পুরোপুরি অর্পণের সুপারিশ করেছিলাম, যাতে নির্বাচন কমিশনকে কারও দিকে এবং কোনো আইনের দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়।
লেখক: নির্বাচন বিশেষজ্ঞ