ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানহীন ওষুধ উৎপাদন বন্ধে নজরদারি বাড়ছে

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসে আলোচনা

মানহীন ওষুধ উৎপাদন বন্ধে নজরদারি বাড়ছে
×

ফাইল ছবি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫২ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে নিবন্ধিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩২২। এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ২৫৮টি। এগুলোর মধ্যে প্রায় ৩০টি কোম্পানি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশের সিংহভাগ মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে। মানহীন ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রোগীর ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এতে।
এবারের বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অসংক্রামক ব্যাধির নিরাপদ চিকিৎসা’। এ উপলক্ষে ডিজিডিএর ফার্মাকোভিজিল্যান্স বিভাগের উদ্যোগে র‍্যালি, আলোচনা সভা, মুক্ত আলোচনা ও কিউআর কোডভিত্তিক কুইজের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডিজিডিএর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মানহীন ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ওষুধের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল বা এপিআই থেকে শুরু করে প্রস্তুত ওষুধ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাসায়নিক অপদ্রব্য ও বিষাক্ততার বিষয়ও পরীক্ষার আওতায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বলা হয় দেশে অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি বন্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি কমাতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করার কথাও জানানো হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরার একটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা সংরক্ষণের ঘটনায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
ডিজিডিএর পরিচালক (ফার্মাকোভিজিল্যান্স) ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তথ্য দ্রুত জানা গেলে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে রোগীর নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, শিক্ষাবিদ, ওষুধশিল্প ও রোগীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা সিদ্দিকা মাহতাব, ঢাবি ফার্মাসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নিপসম, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, আইসিডিডিআর,বি, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ওষুধ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×