‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব
গুজব-অপতথ্য স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে
এ এ এম সালেহ শিবলী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
গুজব, অপপ্রচার, মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও ডিজইনফরমেশন (অপতথ্য) সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালেহ শিবলী বলেন, সাংবাদিকদের নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করতে তাদেরই সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কোনো সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের মালিক তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিয়ে পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন কিনা– সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গুজব, গুঞ্জন ও অপতথ্য বাদ দিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তাই লেখা নয়। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও যাচাই-বাছাই জরুরি। অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বিষয়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে অনলাইন পোর্টাল, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে অনেক তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। মিথ্যা তথ্য, গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে এখন মানুষ বট, কৃত্রিম লাইক-শেয়ার ও মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি সচেতন।
ফ্যাক্ট চেকিংয়ের (তথ্যের সত্যতা যাচাই) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি ফ্যাক্টচেক অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। অনুষ্ঠানের নাম ‘ফ্যাক্টচেক’ কিংবা ‘সত্য-মিথ্যার যাচাই-বাছাই’– যাই হোক না কেন, এমন আয়োজন প্রয়োজন। এতে মানুষ সারাদিন দেখা ও শোনা বিভিন্ন তথ্য রাতে যাচাই করে নিতে পারবেন।
লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পর তিনি (তারেক রহমান) যখন বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন– ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’, সেটি কোনো আকস্মিক রাজনৈতিক স্লোগান বা মুখের কথা ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘদিনের সুবিবেচিত ও সুনির্দিষ্ট এক রাষ্ট্রভাবনা।
এই পরিকল্পনার নেপথ্যের গল্প শুনিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই পূর্ব লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি চাকরির কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা হবে। তিনি সে সময়ই বিদ্যমান কোটা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
সালেহ শিবলী বলেন, ২০১৪ সালে তিনি যে কোটা সংস্কারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন, ২০১৮ সালে সেই দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় এবং পরে ২০২৪ সালে এসে তা সফলতা লাভ করে। ১০ বছর আগেই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করতে পারা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা দেওয়াই একজন দূরদর্শী নেতার আসল পরিচয়।
বক্তব্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নিজ নিজ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অন্যের পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বা অন্যের কথা বলে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার মধ্যে কোনো গৌরব বা গর্ব নেই। রাজনীতি কেবল মিছিল-মিটিং কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় করার বিষয় নয়। বরং ব্যক্তিক ও পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- সচিব