ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক নির্বাহী প্রকৌশলী সামলান তিন জেলা

এক নির্বাহী প্রকৌশলী সামলান তিন জেলা
×

ছবি-সংগৃহীত

 সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৫ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

তীব্র জনবল সংকটের মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম বাস্তবায়নকারী সংস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)। প্রকৌশলী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য দীর্ঘদিন। ফলে মাঠ পর্যায়ে উন্নয়নকাজ তদারকি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে চলছে স্থবিরতা। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের শেষ সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দুটি পদ শূন্য। এ ছাড়া প্রধান প্রকৌশলী রুটিন দায়িত্ব পালন করায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরও একটি পদ কার্যত খালি। জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী প্রকৌশলীর ৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। পাশাপাশি ২৭ জন সহকারী প্রকৌশলী, ১৪৩ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ১৭২ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ১৮৪ জন অফিস সহায়কের পদও খালি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজের মূল দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের ওপর ন্যস্ত। জনবল সংকটের কারণে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক জেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রকল্প পরিদর্শন, বিল যাচাই, কাজের মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয় কার্যক্রম প্রচণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) পদের অনুমোদিত সংখ্যা ৭২ হলেও বর্তমানে নিয়মিত কর্মরত ৪৭ জন। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৭০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান এবং অবসরের কারণে সাতটি পদ শূন্য হয়ে পড়েছে।

এসব শূন্যতা নিরসনে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সাতজন সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্বাহী প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত ও মাঠ প্রশাসন সচল রাখতে এসব পদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত কর্মকর্তাদের অধিকাংশেরই প্রায় তিন দশকের মাঠ প্রশাসন ও কারিগরি অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের চলতি দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে দুই থেকে তিন জেলার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যাচ্ছে এবং তদারকির সীমাবদ্ধতায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জুন ক্লোজিং সামনে রেখে এডিপির অর্থ ব্যয় ও প্রকল্প সমাপ্তির চাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কর্মকর্তারা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছেন।

তারা আরও জানান, শুধু প্রকৌশলী সংকটই নয়, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস সহায়কসহ প্রশাসনিক পর্যায়ের বড় সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় নথি প্রস্তুত, বিল প্রক্রিয়াকরণ, প্রকল্প তথ্য হালনাগাদ এবং ই-জিপি কার্যক্রমেরও ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠতার তালিকাভুক্ত সাতজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী সমকালকে বলেন, প্রকৌশলী পদে শূন্যতার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। 

নিজ কার্যালয়ে সমকালের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক বলেন, মাঠ পর্যায়ের জনবল সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শূন্য পদ পূরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সময়মতো ও গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়নে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান এবং জনবল কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।’

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষা খাতে সরকারের বড় অবকাঠামোগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো 
জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জনবল সংকট অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রকৌশলী সংকটের দ্রুত নিরসন না হলে নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

আরও পড়ুন

×